বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি দুটো : ১৯৪৭ ও ১৯৭১: ড. সলিমুল্লাহ খান
সলিমুল্লাহ খান শুধু একজন পণ্ডিতই নন, সজ্জনও বটে। তার দার্শনিক চিন্তা অনেককেই নাড়া দেয়। তার বিরোধিতা থাকলেও তাকে উপেক্ষা করা যায় না। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব কামাল
যুগান্তর: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনীতিটা ঠিকমতো চলছে কি?
ড. সলিমুল্লাহ খান: অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর আমি দেখলাম, দেশের ওপর তাদের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মানে, বলতে গেলে সমান্তরাল সরকার চলেছে বেশ কয়েকটা। আপনার অভিজ্ঞতা তা সমর্থন করে কি না জানি না, আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে সেটাই। সরকারের একটা কেন্দ্র আছে বটে, সেটা ড. ইউনূসের কেন্দ্র। কিন্তু ৫ আগস্ট যে আকাঙ্ক্ষা জন্মেছিল, তার অনেক ব্যাখ্যা হতে পারে। একটা ব্যাখ্যা এমন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা বৈষম্যবিরোধী সাধারণ আন্দোলন, সেটা ছিল সরকারি চাকরিতে, বিশেষ করে সিভিল সার্ভিসে, কোটাপ্রথার বিপরীতে মেধার প্রাধান্য স্থাপন করা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার যখন গঠিত হলো, সেটা অনেকটাই কোটার ভিত্তিতেই হয়েছে। এটা আপনি বলতে পারেন ‘কোটাভাস’ প্যারাডক্স। সেখানে সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন, কয়েকজন এনজিও লর্ড, কয়েকজন সিভিল সোসাইটি-এরকম কতগুলো বিন্যাস হয়েছে। তো এজন্য বলি, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনটা ছিল শুরু থেকেই সমস্যায় আকীর্ণ। ৫ আগস্টের আন্দোলনে প্রকৃত ভূমিকা পালন করেছে যারা, জীবন দিয়েছে যারা, তাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ, ছাত্র, যুবক। শ্রমিকরাও আছে। তাদের কথা আস্তে আস্তে পেছনে সরে গেছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- দার্শনিক
- বর্তমান সরকার