আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট শেষবার যখন লাতিনের কোনো শক্তিশালী শাসককে ধরে আনার জন্য সেনা পাঠিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম এক তরুণ সাংবাদিক। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে বসে বড়সড় একটি টেলিভিশনে ‘অপারেশন জাস্ট কজ’-এর ঝাপসা দৃশ্য দেখছিলাম।
১৯৮৯ সালে পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের সেই হামলার ফল ছিল প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নরিয়েগার গ্রেপ্তার ও পরে মাদক পাচারের মামলায় বিচার। ওয়াশিংটনে এ অভিযানকে আজও ‘আদর্শ হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হয়।
এ কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলায় কথিত বড় পরিসরের হামলার পরিকল্পনাকারীরা পানামার সঙ্গে তুলনা টানছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। উপস্থাপনাটাও প্রায় একই রকম। একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মাদকনির্ভর স্বৈরশাসক, একটি নিখুঁত সামরিক অভিযান এবং তাঁকে ধরে এনে আমেরিকার আদালতের মুখোমুখি করা।
শনিবার সকালে কারাকাসের আকাশে যখন ধোঁয়া উড়ছে এবং ভেনেজুয়েলার মানুষ অন্ধকার রাস্তায় দৌড়াচ্ছে, ট্রাম্প সেটিকে বলেছেন এক চমৎকার অভিযান। তিনি গর্ব করে বলেন, দুর্দান্ত সেনাদের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কিন্তু ভেনেজুয়েলা পানামা নয়। আর ট্রাম্প প্রশাসন যদি ভাবে—তারা অপারেশন জাস্ট কজের সাফল্য সহজে অনুকরণ করতে পারবে, তাহলে তাদের সামনে কঠিন বাস্তবতা অপেক্ষা করছে।
সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্যটি শুরুতেই সামনে আসছে। তা হলো ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ যখন পানামায় হামলার নির্দেশ দেন, তখন সেখানে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।
দক্ষিণ কমান্ডের সদর দপ্তর ছিল পানামার মাটিতেই। ক্যারিবিয়ান সাগর পেরিয়ে শক্তি প্রদর্শনের দরকার পড়েনি। তারা আগেই সেখানে প্রস্তুত ছিল সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে এবং গিলার্মো এন্দারাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বসাতে। তারা পানামা ডিফেন্স ফোর্সকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পেরেছিল।