ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল সমাজ নির্মাণ কীভাবে সম্ভব

প্রথম আলো খান মো. রবিউল আলম প্রকাশিত: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৬

প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর মবের হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। এটি প্রগতিশীল প্রতীক, মূল্যবোধ ও আদর্শের ওপর আঘাত; অর্জনের চিহ্নগুলো দমানোর অপচেষ্টা; আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অসাম্প্রদায়িকতা ও বহুত্ববাদের স্মারক। বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং মানুষের জয়গান তাদের মূল কাজ।


বাঙালি সংস্কৃতিকে অনেকে ‘হিন্দুয়ানি’ সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন। ভারতের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে মিলও খোঁজেন। বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ যাঁরা প্রমোট করতে চান, তাঁরা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির প্রসারক বলে অভিযুক্ত হন।


বাঙালি সংস্কৃতি স্থবির কোনো ধারণা নয়। সংস্কৃতি বিনির্মাণের মূল শক্তি ভাষা। বাংলা ভাষাকে অন্য ভাষার ‘দুহিতা’ বা ‘বোন’ বলা হয়। এ ভাষা স্বভাবের কারণে অন্য অনেক ভাষা থেকে এত বেশি গ্রহণ করেছে, যা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এ ভাষা সংস্কৃত, আরবি, উর্দু, ফারসি, ইংরেজিসহ  আরও অনেক ভাষা থেকেও সাংস্কৃতিক নির্যাস গ্রহণ করেছে। কিন্তু তা করেছে নিজের মতো করে অবিকৃত ও স্বতন্ত্র রূপে। সাংস্কৃতিক বিনিময় একটি মৌলিক প্রবহমান সত্তা।


ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের কারণে (যদি হয়ে থাকে) বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, এমনটি বলা যাবে না। এ দেশের ভূগোলের মধ্যে বসবাসরত মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তাধারা এবং ভাবকাঠামো স্বতন্ত্র, যা বদলে ফেলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পাটাতন অতলস্পর্শী, অপ্রতিরোধ্য।


যাই হোক, যুক্তিতর্ক, আলাপ-আলোচনার বিপরীতে প্রতিবাদের ভাষা যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে সমাজ অন্ধকারের চোরাগলিতে ঢুকে পড়েছে। সহিংসতা প্রতিবাদের কোনো ভাষা হতে পারে না। সহিংসতার মাধ্যমে হয়তো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চাপে ফেলা যায়, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়; কিন্তু তার নীতি বা আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না।


সহিংসতা ছেড়ে ‘অহিংস প্রতিরোধের’ কথা বলেছিলেন মহাত্মা গান্ধী, যাঁকে ইংরেজিতে ‘প্যাসিভ রেজিট্যান্স’ বলা হয়। নাগরিকের পক্ষে সহিংস হওয়া সম্ভব নয়। নাগরিকবোধের সঙ্গে দায়দায়িত্ব, পরিশীলন, প্রচলিত আইন-নীতি মান্যতার সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃত নাগরিক কখনো নিজ হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না।


কিন্তু মব তা পারে। কারণ, মবের ভেতর নাগরিকতাবোধ তৈরি হয়নি। মব যখন বিচারের দায়িত্ব নেয়, বিচার করতে বসে, তখন তা প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। মবের বিচারের চেয়ে ভয়াবহ বিচার আর হতে পারে না! মবের শুদ্ধীকরণ অভিযানের চেয়ে ভয়ংকর অভিযান আর হতে পারে না!


নিহত হলেন শরিফ ওসমান হাদি। আর ঘর পুড়ছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর। যারা এ ঘৃণ্য কাজটি করছে তাদের যুক্তি দুটি; প্রথমত. সংবাদপত্র দুটি হাদির নিহত হওয়ার খবর যথাযথভাবে প্রচার করেনি (প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এ আগুন ও ভাঙচুরের সময় বিভিন্ন মাধ্যমে দেওয়া হামলাকারীদের সাক্ষাৎকারে বিষয়টি উঠে এসেছে)। দ্বিতীয়ত. সংবাদপত্র দুটি ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রচারে মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। ছায়ানট ও উদীচীকেও ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের ধারক ও বাহক হিসেবে তারা বিবেচনা করছে।


মবের গডফাদাররা এভাবে ভাবতেই তাদের প্রলুব্ধ করছে। কারণ, এর পেছনে রয়েছে গভীর অপরাজনীতি। আর তা হলো মবের মনস্তত্ত্বের উপযোগী শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ফেলা। ন্যূনতম পক্ষে চাপের ভেতর রাখা।


যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস যথার্থ বলেছেন, অধিকাংশ সভ্য দেশে এ জাতীয় সংকটের সময় একাধিক ‘প্রেশার পয়েন্ট’ কাজ করে, যেমন আদালত, আইন পরিষদ, মানবাধিকার কমিশন ও সংবাদমাধ্যম। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ছাড়া আর অন্য কোনো প্রেশার পয়েন্ট কার্যকর নয়। (প্রথম আলো ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) সুতরাং সংবাদমাধ্যমকে চাপে ফেলতে পারলে মবের চলার পথ সহজ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও