মেঘাচ্ছন্ন আকাশে রবির উঁকি

দেশ রূপান্তর মাহমুদ রেজা চৌধুরী প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৪

‘আরে ব্যাটা তোর যদি সাহস থাকে, বাংলাদেশে ফিরে আয়। আমরা একটু দেখি’! কথাটা অনেকেরই মনে আছে। বেশ কয়েক বছর আগে ওই সময়ের (২০০৮-২৪) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী তার কোনো এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে উদ্দেশ করে এ কথা বলেন। একই কথা আজকে যদি তাকে বলা হয়! কী উত্তর দেবেন তিনি এবং তার ভক্তরা, কে জানে! আমাদের অনেক জানা, বোঝা ও বলার মধ্যে অজ্ঞতা, অবজ্ঞা আছে। অহঙ্কার ও অন্ধ আবেগ আছে। বিভ্রান্তি ও সত্যের বিকৃতি আছে। দেশের চেয়েও বেশি দল ও নেতা-নেত্রীকে ভালোবাসার আবেগ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। এসব আধাশতাব্দী ধরে আমাদের ভোগাচ্ছে। চোখে আঙুল দিয়ে অনেক কিছু দেখাচ্ছে। তবু আমরা যে তিমিরে, সেখানেই। কখনো কখনো আকাশে গভীর কালো মেঘ সরে একটু রবির আলো দেখতে পাই, দেখিও। এরপরও অমাবস্যার অন্ধকারকে বেশি ভালোবাসি। ওটা হলে একটা সুবিধা, অন্ধকারের ঢিল ছোড়ার কাজটা সহজ হয়  সচরাচর যা অনেকে করি। বিগত ৫২-৫৩ বছরের অধিকাংশ সময়ে, আমরা সাধারণ মানুষ কালো মেঘের নিচে জীবনযাপন করে আসছি। সবকিছুতে কালো মেঘ দেখি বেশি। এর অর্থ, আমাদের সমাজ পরিবর্তন হয়নি এখনো। সামাজিক ইতিবাচক মূল্যবোধ এখনো লাঠি ভর করে হাঁটে। তেমন একটা লাঠি ভর করা দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধের সঙ্গে আবারও পরিচয় হয় ১৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ। দেশের আন্তর্জাতিক আদালত (শেখ হাসিনারই তৈরি)  আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং দেশে এক দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী (২০০৮-২৪) শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্বৈরাচারী কর্মকা- এবং দেশের নাগরিকের ওপর খুন ও হত্যার অভিযোগে এই আদালত তার ফাঁসির রায় দেন। সঙ্গে সঙ্গেই এ নিয়ে দেশ-বিদেশে কিছু মানুষের বিভিন্ন অসংলগ্ন মতামত ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করি। যেন এটা একটা বড় ধরনের অপরাধ হয়ে গেছে।


কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বা অন্ধ সমালোচনাও যদি সমাজকে বিভক্ত করে, খণ্ড-বিখ- করে সেটা কতটা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে হয়! এতে আলোচনায় আসা যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান মেলে না। কারও মতে, এই বিচার প্রক্রিয়া শতভাগ সুষ্ঠু এবং যৌক্তিক হয়নি। কারও মতে, ফাঁসির রায় হয়েছে তো কী, ফাঁসি তো হয়নি হবেও না। শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়া যাবে না। হতেই পারে। আবার তা নাও হতে পারে। বাংলাদেশের এক বড় রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলের একটা বড় অবদান ও ভূমিকা ছিল। সেই দলের সভানেত্রীকে চাইলেই ফাঁসি দেওয়া আপাতত কঠিন। তারও অনেক কারণ আছে। তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের স্বার্থ আছে, শেখ হাসিনাকে যেকোনোভাবে রক্ষা করার। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশে কম হলেও এক কোটি পরিবার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ও তার  প্রশংসা করেও কমবেশি লাভবান হয়েছেন। কারোর একটু ক্ষতি হয়েছে, কাউকে কাউকে এটাও অন্যরকম ‘সুখ্যাতি’ দেয়। কেউবা ব্যক্তিগত বা সামাজিক অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তা পেয়েছেন। কারোর প্রতি নেত্রীর বিদ্বেষ থাকলেও, নেত্রী কোনো না কোনো কারণে তার ওই বিদ্বেষকে পাশে রেখে অনেককে প্রশ্রয় দিয়েছেন রাজনৈতিক স্বার্থে। আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিভিন্ন বিপদে ফেলার ইতিহাসে কোনো সূক্ষ্ম, ন্যায়বোধ কাজ করে না। এ ব্যাপারে দেশের কোনো আদালত কখনোই ‘ন্যায় বিচার’ করার তেমন কোনো দৃষ্টান্ত দিতে পারেনি। আমাদের রাজনৈতিক হত্যাকান্ড, গুম বা তার বিচারের অধিকাংশই ভেজাল। এ রকম একটা অবস্থায় চট করে আমাদের রাজনৈতিক অপরিবর্তনীয় অবস্থায় এর সামাজিক কিংবা আইনগত বিচার পুরো ন্যায়সঙ্গত দেখতে পারবে? যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ! এটা ৫৩ বছরেও হয়েছে কী? কে করেছেন! তাই বলে কি বিচার থেমেছিল? সেখানে কি অবিচার ও মৃত্যুদ- কার্যকর হয়নি! একটি দেশের বড় দলের রাজনৈতিক নেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শাসনামলে ক্ষমতার যেসব অনৈতিক ও রাজনৈতিক অপব্যবহার করেছেন, তার জন্য যদি তাকে কোনো বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এটা কি খুব বড় অন্যায়?


শেখ হাসিনার রাজনীতি, তার রাজনৈতিক অ্যাটিচুড এবং কার্যকলাপের অনেক বর্ণনা আছে ইতিহাসের পাতায়। সেই পাতাগুলো এখনো বিবর্ণ ও জীর্ণ হয়নি। শেখ হাসিনা সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে, আপাতত ‘আমার ফাঁসি চাই’, লেখক, মুক্তিযোদ্ধা, মতিউর রহমান রেন্টু এ বইয়ের বর্ণনাকে যদি ধরে নেওয়া হয়, এর মাত্র ৪০ ভাগ সত্যি, তাহলেও ফাঁসির কোনো বিকল্প আছে কি? এটা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ, ব্যক্তিগত আবেগ প্রকাশ এবং অনেক কুতর্কের অবতারণা করতে পারি। দেশ-বিদেশে হইচইও করতে পারি। কিন্তু ইতিহাসে শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্ব, রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনা কখনো গণতান্ত্রিক, ন্যায়সংগত ও সুষ্ঠু ছিল, তা বলা যাবে না। এখন যারা শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কুমিরের কান্না’ দেখাচ্ছি, ইতিহাসে  তাদের কি বলা হবে? ইতিহাস শেখ হাসিনার ব্যাপারে আদালতের রায়কে আর যাই বলুক, বিবেকবান কেউ একে অন্যায় বলবেন না। আমাদের ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোকে এটাও বিবেচনার দাবি রাখে। আমাদের কেবল ধৈর্যধারণ করতে হবে। রাগের বদলে দ্বিগুণ রাগ আগুন জ্বালাবে, গণতন্ত্রের পথ সুগম করবে না। আমাদের সীমাবদ্ধ দৃষ্টির মধ্যে কেবল ক্ষমতা আর ক্ষমতা।  নিজেকে ভালোবাসা সবার আগে অগ্রাধিকার পায়। একেই এখন আমরা ‘ব্যক্তির’ গণতান্ত্রিক অধিকার বলি। ওপর দিকে তাকিয়ে নিচের দিকে থুথু ফেললে, তা যে নিজের গায়ের ওপর পড়ে। তাই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড অনেকের কাছে নিজের মৃত্যুদণ্ড কিনা! ষাঁড়ের মতো চেঁচালে, ব্যঙ্গ করে কথা বললে শব্দদূষণ হয়। কিন্তু সত্যের পরিবর্তন হয় না। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ক্ষমতা যার যত বেশি একক হবে, সেখানে অপরাধ বেশি হবেই। পাশাপাশি, গণতন্ত্র বলতে আর যাই বুঝি না কেন, দেশের অধিকাংশ লোকের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এর হৃদপি-ের চেতনাকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র হয় না। অন্য কোনো দেশের গণতন্ত্রের মতো করে নিজ সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাও যায় না। পাশাপাশি বেশি দামে কিনে, অল্প দামে স্বাধীনতাকে বিক্রি করে দিলে গণতন্ত্রের সুনিশ্চয়তাও থাকে না। আমার সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতন্ত্র হবে আমাদের মতো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের গণতন্ত্র, আমার গণতন্ত্র না। অ্যারিস্টটল ও প্লেটোর রাষ্ট্র, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের সংজ্ঞা বদলে গেছে।  কারণ এসব সমাজ ও সংস্কৃতি, আমার দেশ ও সমাজ সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন। কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ধার করে প্রতিষ্ঠা হয় না। শিক্ষা থাকলেই জ্ঞান হয় না। জ্ঞান থাকলেই প্রজ্ঞা নিশ্চিত না। এ জন্য প্রয়োজন আমাদের জন্য ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’ এই বিশ্বাস ও সংস্কৃতির চাষাবাদ। এটা আমাদের গণতন্ত্র এবং দেশপ্রেমের মৌলিক সংজ্ঞা। একেই সমাজ ও রাষ্ট্রে আমাদের গণতন্ত্রের সর্বপ্রথম কমিটমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও