ঢাকা কি বসবাসের যোগ্য?

ঢাকা পোষ্ট ঢাকা মেট্রোপলিটন শাকুর মজিদ প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৩

পৃথিবীর নানা দেশের, নানা শহরে ঘুরতে গিয়েছি। কিছুদিন থাকার পরই ঢাকা ফেরার জন্য হা-পিত্যেশ করি। এই শহরে এমন কোনো জাদু নেই, যা আমাকে টেনে আনে। কিন্তু কেমন যেন মনে হয়, এই শহরের মাঝেই আমি প্রাণ খুঁজে পাই।


আমার সর্বশেষ দীর্ঘ বিদেশ ভ্রমণ ছিল ২০১৯ সালে, ওশেনিয়ায় ৩ সপ্তাহের ট্যুর। এই ট্যুরটা নানা কারণে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ—এই ভেবে যে, একই সাথে আমরা বাসযোগ্যতার নিরিখে পৃথিবীর নিকৃষ্ট এবং উৎকৃষ্ট—দুই রকমের শহরের গন্ধ নিয়ে এসেছিলাম।


প্রথমে গিয়েছিলাম পাপুয়া নিউ গিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবিতে। সাড়ে ৮ শ’র মতো জাতির মানুষ ৮ শ’টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় সেদেশে কথা বলে। শুনে চমকে উঠেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় দিন যখন দেশের গ্রামাঞ্চল দেখতে বেরোলাম, আমাদের আগে-পিছে নিরাপত্তা বাহিনীর লোক দিয়ে দেওয়া হলো। বুঝে ফেললাম এই শহর নিরাপদ নয় এবং জেনে আতঙ্কিত হলাম যে এই শহরটি বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে সর্বনিম্ন স্থানে আছে।


এই খবরের পাশের খবর ছিল—আমাদের ঢাকার অবস্থা তার থেকে সামান্য দূরে, সর্বনিম্নের ঠিক ওপরেই তার অবস্থান। নিকৃষ্টের সঙ্গে নিকৃষ্টের প্রতিযোগিতা—এই ভেবেও শান্তি পাওয়ার সুযোগ হলো না। যতই কালো-কৃষ্ণ চামড়ার ভারি, মোটা ঠোঁটের মানুষেরা আমাদের সাথে মিষ্টি মিষ্টি ভাষায় কথা বলুক, মনে হতো—এই বুঝি কেউ ছুরি ধরে বলে বসে, ‘যা আছে দিয়ে দাও।’


পাপুয়া নিউ গিনি ছেড়ে আমরা অস্ট্রেলিয়া যাই। আমরা মনের আনন্দে মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা ঘুরে বেড়াই। মেলবোর্নের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে টের পেলাম—এ শহর পৃথিবীর নিরাপদতম শহর। আর খোঁজ নিয়ে জানলাম—বাসযোগ্যতার নিরিখে পৃথিবীর শীর্ষ ১০টি শহরের মধ্যে ৪টিই অস্ট্রেলিয়ার শহর।


মেলবোর্নের অবস্থান দ্বিতীয়। একজন জানালেন, ২০২৪ সালে এই শহরে মাত্র একটি ইভ-টিজিংয়ের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছিল, এ কারণে দ্বিতীয়তে নেমে এসেছে; না হলে এটি প্রথমই হতো।


যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা The Economist Intelligence Unit (EIU) প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ১৭৩টি শহর বিশ্লেষণ করে এই সূচক প্রকাশ করে। এরা The Global Liveability Index–এ যে ৫টি মানদণ্ডে শহরের বাসযোগ্যতা যাচাই করে, তা হলো—



  • স্থিতিশীলতা—অপরাধ, সন্ত্রাস, যুদ্ধ বা সিভিল বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি,

  • স্বাস্থ্যসেবা—পাবলিক ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যসেবার মান, পরিষ্কার পানি, টেলিকম ইত্যাদি

  • সংস্কৃতি ও পরিবেশ—জীবনের মান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সুযোগ, পরিবেশ মান

  • শিক্ষা—প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, শিক্ষার সুযোগ ও মান

  • অবকাঠামো—পরিবহন, যাতায়াত, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট, স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি


এসব বিচারে ২০২৫ সালে বাসযোগ্যতার নিরিখে সবার ওপরে আছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন। এরপর আছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি।


আর কষ্টের খবর হলো, ২০২৫ সালের হিসেবে সারা পৃথিবীর ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা স্থান পেয়েছে ১৭১তম অবস্থানে। লিবিয়ার ত্রিপোলি আর সিরিয়ার দামেস্ক—এই দুই যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর দুটো মাত্র ঢাকার চেয়ে আরও খারাপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার চেয়ে একটু ভালো অবস্থানে আছে নাইজেরিয়ার লাগোস, ভেনেজুয়েলার কারাকাস, জিম্বাবুয়ের হারারে, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোরসবি (৬ বছরে অবস্থান উন্নতি করেছে ৬ ধাপ), পাকিস্তানের করাচি ইত্যাদি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও