কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

করোনার প্রভাবে টিকাদান ১০% কমেছে

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২০, ১০:১৯

মহামারির প্রভাব স্বাস্থ্য খাতের অন্য ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার দুই মাসে ১০ শতাংশ কমে গেছে। ইউনিসেফ বলছে, আগামী ৬ মাসে বাড়তি ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা আছে।গতকাল বুধবার নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনের শুরুতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শিশুদের টিকাদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সব জনগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, আপনার শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে টিকা দেওয়ার জন্য নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিল-মে এই দুই মাসে প্রায় আড়াই লাখ শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি। সারা দেশে নিয়মিত টিকাদানের হার ছিল ৯০-৯৫ শতাংশ। এখন তা কমে ৮০-৮৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।


কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। বহু কেন্দ্রের কার্যক্রম চলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীর বা কোনো ব্যক্তির বাড়িতে। করোনাকালে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেকে বাড়িতে ভিড় জমাতে দেননি, তাই টিকার ক্যাম্প করা সম্ভব হয়নি।’ তবে ইউনিসেফ বলছে, এপ্রিল মাসে নিয়মিত টিকাদান থেকে প্রায় অর্ধেক শিশু বাদ পড়ে। করোনা প্রতিরোধে দেওয়া লকডাউনের (অবরুদ্ধ অবস্থা) কারণে শিশুরা টিকা পায়নি। অন্যদিকে টিকাদান কেন্দ্র খোলা থাকলেও সংক্রমণের ভয়ে অনেক মা শিশুকে নিয়ে কেন্দ্রে যাননি। ইউনিসেফের হিসাবে এপ্রিল মাসে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার শিশু টিকা পায়নি। এ বিষয়ে মো. শামসুল হক বলেন, দুই মাসে যেসব শিশু বাদ পড়েছে এবং যারা ঝরে পড়েছে, তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারিকালে টিকাদানের যে নির্দেশিকা তৈরি করেছে, তা অনুসরণ করে টিকাদান অব্যাহত রাখা হবে। করোনার কারণে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা–সেবায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে এর প্রভাব পড়ছে শিশুস্বাস্থ্যে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার তাগিদ একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রথম আলোকে বলেন, গর্ভকালীন সেবা ও শিশু সেবার বড় অংশটি আসত বেসরকারি খাত থেকে।


করোনার কারণে বেসরকারি ছোট-বড় ক্লিনিক ও হাসপাতাল প্রায় সব বন্ধ। মা ও শিশু প্রয়োজনের সময় সেবা নিতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ইউনিসেফ বলছে, মহামারির কারণে আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী বাড়তি ২৮ হাজার শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা আছে। সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা বলছেন, বছরে এই বয়সী ১ লাখ ২০ হাজার শিশু মারা যায়। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলেছেন, চারটি কারণে সেবা কমেছে: কোভিড-১৯ সেবায় যুক্ত হওয়ায় শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় জনবল কমেছে, শিশুখাদ্যসহ নানা সামগ্রী সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে, সেবা নেওয়ার ব্যাপারে চাহিদা কমেছে এবং সেবা ব্যবহারের সুযোগ কমেছে। ওই গবেষকেরা বলছেন, অপুষ্টির কারণে শিশুমৃত্যু বাড়বে।


অন্যদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক না পাওয়া, নবজাতকের সংক্রমণ এবং ডায়রিয়ায় শিশুর বাড়তি মৃত্যুর কারণ হবে। শিশুমৃত্যুর ব্যাপারে জানতে চাইলে মো. শামসুল হক বলেন, মৃত্যুর আশঙ্কা তো আছেই। হঠাৎ কোথাও হাম দেখা দিলে অথবা শিশু ঠিক সময়ে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা না পেলে তা ঘটতে পারে। করানোকালে খাদ্যসংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে ইউনিসেফ বলেছে, বাংলাদেশে অনেক পরিবার দিনে তিন বেলা খেতে পারছে না। তারা আরও বলেছে, হাম, নিউমোনিয়া, ডিফথেরিয়া, পোলিওসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়া আবার চালু করতে হবে। পাশাপাশি বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং জরুরি সর্বজনীন শিশু সুরক্ষায় সরকারের সরাসরি বরাদ্দ বাড়াতে হবে।


সার্বিক বিষয়ে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেবা কমে যাওয়ার পেছনে জনস হপকিনসের গবেষকেরা যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো ঠিক আছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা না-ও মিলতে পারে। কারণ, আমরা দেখছি পরিবেশের উন্নতি হয়েছে, শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা অ্যাজমা কম দেখা যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, যেহেতু টিকার সংকট নেই, সুতরাং টিকদান কর্মসূচি পুরোদমে চালু করতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও