ছবি সংগৃহীত
নায়ক যখন উপস্থাপক
আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১২:৫৭
চিত্রনায়ক রিয়াজ। ছবি: সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) উপস্থাপনায় অনেক আগেই আত্মপ্রকাশ করলেও এবার একটু ভিন্ন ভাবেই টিভি পর্দায় আসছেন জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ। একুশে টেলিভিশনের বিশেষ আয়োজন ‘আমার ছবি আমার গান’ অনুষ্ঠানে তার নিজের অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র, গান এবং পর্দার পেছনের গল্প থেকে শুরু করে দর্শকদের জানাবেন নায়ক রিয়াজ হয়ে ওঠার শুরুর গল্প।
অনুষ্ঠানটিতে দেখানো হবে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কিছু গান। অন্য উপস্থাপকের সঞ্চালনায় নয়, নিজেই উপস্থাপক হয়ে বলবেন সেই গানগুলো সম্পর্কে এবং জানাবেন নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রের পর্দার পেছনের না জানা গল্প, তৎকালীন উল্লেখযোগ্য ঘটনা, এবং শুটিং অভিজ্ঞতার কথা ।
এ বিষয়ে রিয়াজ বলেন, ‘ভিন্ন ধরনের একটি আয়োজন এটি। একুশে টেলিভিশনকে ধন্যবাদ এ ধরণের অনুষ্ঠান বানানোর জন্য। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’
ইতিমধ্যে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠানটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। ফারহানা নিশো’র পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন সিফাত তন্ময় এবং সোহেল রানা সবুজ। অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত দশটায়।
এক নজরে
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক, যিনি রিয়াজ নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ১৯৭২ সালে ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুরে জন্মগ্রহন করেন। তার ছেলেবেলা কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়ার্টার্সের চৌহদ্দিতে। ১৯৭৭ সালে ফরিদপুর জেলা সদরে অবস্থিত উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন।
এরপরে ফরিদপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হন,সেখানে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুর সদরে অবস্থিত ময়েজউদ্দীন হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ফরিদপুর থেকে চলে আসেন পৈতৃক বাসস্থান যশোর জেলায়। তার কলেজ জীবন শুরু হয় যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এইচএসসিতে ভর্তির মাধ্যমে এবং সেখান থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
রিয়াজের বাবা জাইনুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক ছিলেন সরকারি অফিসের একজন কর্মকর্তা; মাতা (মৃত) আরজুমান্দ আরা বেগম। গৃহিণী ছিলেন। রিয়াজ পরিবারের ছোট সন্তান। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বড় ভাই রাইজুদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক এবং ছয় বোন জিন্ন্যা আরা, সুলতানা জাহানারা সিদ্দিক, সুলতানা রওনক আরা, সুলতানা রওশন জামিল, সুলতানা সালমা শাহীন ও সুলতানা ফাতেমা শিরিণ। পরিবারের উৎসাহে যশোরে বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দেন এবং উত্তীর্ণ হন। যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বিমানচালক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে কর্তৃপক্ষের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন।
এরপর তিনি চাচাতো বোন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতার হাত ধরে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একজন অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ‘বাংলার নায়ক’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'হৃদয়ের কথা' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন।
এছাড়াও রিয়াজ ভারতীয় চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা মহেশ মাঞ্জরেকারের 'ইট ওয়াজ রেইনিং দ্যাট নাইট' নামে একটি ইংরেজী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চলচ্চিত্রে রিয়াজ বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেনের সাথে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কারে ভূষিত করে। পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলি যথাক্রমে 'দুই দুয়ারী' (২০০০), 'দারুচিনি দ্বীপ' (২০০৭) এবং 'কি যাদু করিলা' (২০০৮)।
রিয়াজ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর মডেল মুশফিকা তিনার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের প্রায় আট বছর পর ২০১৫ সালের ১ জুন তিনি কন্যা সন্তানের পিতা হন। রিয়াজের নিজ পরিবারের কেউ অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও তার তিন চাচাতো বোন কোহিনুর আক্তার সুচন্দা, ফরিদা আক্তার ববিতা ও গুলশান আরা চম্পা বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
সম্পাদনা: শামীমা সীমা
- ট্যাগ:
- সিনেমা
- বিনোদন
- চিত্রনায়ক রিয়াজ
- রিয়াজ আহমেদ