ছবি সংগৃহীত
ব্যক্তিস্বার্থেই সুমী আপা আমাকে মনোবলহীন করার জন্য এমন আচরণ করেছেন: পিন্টু ঘোষ
আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:১৬
সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ/ ছবি: সংগৃহীত।
(প্রিয়.কম) সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ। বর্তমানে কয়েকটি চলচ্চিত্রের সংগীতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। পাশাপাশি গান নিয়ে করছেন নতুন সব পরিকল্পনা। তবে গত নভেম্বরে সবচেয়ে আলোচিত যে বিষয়টি ছিল, সেটি হল ‘চিরকুট’ ব্যান্ড থেকে তার বের হয়ে যাওয়া। এদিকে গতকাল দুপুরে গান, ক্যারিয়ার ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। যা পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো-
প্রিয়.কম: এই প্রসঙ্গটা না তুললেই নয়-গত নভেম্বরের ঘটনা; তারপরও নতুন করে জবানিপাত, আপনি কেন চিরকুট ব্যান্ড থেকে বেরিয়ে গেলেন, আসল ঘটনাটা কি?
পিন্টু ঘোষ: এটা শুরুর দিকের কথা বলছি-একটা সময় ‘চিরকুট’ নাটক আর সিনেমার মিউজিকের কাজগুলো ওভাবে করত না। আমি তখন মাঝেমধ্যে করতাম। আর চিরকুটের যখন ‘চিরকুট’ (ব্যান্ড নেম) নামটা দরকার ছিল-আমি তার আগে থেকেই সিনেমার মিউজিকের কাজ করি। এরপর আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হল-আমরা যে যাই কাজ করি না কেন, সাথে আমরা চিরকুটের নামটা যোগ করে দিই।
সে সময় এমনও হয়েছে আমার একদম ব্যক্তিগত শো-তখন যেভাবেই হোক চিরকুটকে দিয়েছি। আর এরপর পাঁচ বছর পরে চিরকুট যখন ‘চিরকুট’ হয়ে উঠেছে। তখনই সব কিছুতে আমাকে ছাড়া একটা এলোমেলো বাতাস বইতে শুরু করল। এরপর একটা সময় গিয়ে আমার মিউজিক্যাল চিন্তা-ভাবনা আর তার (সুমী) ভালো লাগতে ছিল না। এরকমও হয়েছে দলের সবার ভালো লাগলেও সুমী আপার ভালো না লাগার কারণে সে সময় প্রজেক্টটি বাদ দিয়ে দিয়েছি।
অনেকটা সময় পর গিয়ে আমি বললাম-চিরকুট যে ফরমায়েশী কাজগুলো করে তার সাথে আমি আর নেই। কারণ সে কাজগুলো আমার মতো করে হচ্ছিল না। আসলে বিকৃত হচ্ছে। এর কারণে আস্তে আস্তে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছি। যেহেতু সম্মান নেই। তাই দূরে সরে গিয়েছি। আর ব্যক্তিস্বার্থেই সুমী আপা আমাকে মনোবলহীন করার জন্য এমন আচরণ করেছেন। এরজন্য তারা সব ধরনের পরিকল্পনা ছিল আমাকে নিয়ে।
আমি এই বিষয়টা বলতে চাই-চিরকুট ব্যান্ডের কাজগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে করছি? বিষয়টি এমন ছিল না। পরিচালক যদি আমাকে চায়; সেখানে আমার কি করার? এরমধ্যে আমি বিজ্ঞাপন কিংবা অন্য কোন জায়গায় জিঙ্গেল দিতাম, সেগুলো বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। চিরকুট থেকে বের হওয়ার তিন মাসে আগের একটা ঘটনা বলি-‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিটির মুক্তির আগে ফেসবুকে তার একটি ছবিতে লাইক দেওয়ার কারণে বিশ্রী সব কথা লিখে আমাকে ম্যাসেজ করেছেন তিনি, যেটা খুবই বিশ্রী! যার কারণ আমি কেন তার ছবিতে লাইক দিলাম?
আর অনেক সময় যাওয়ার পর সুমী আপা বললো, আমার মতো এরকম আরও অনেক মেধাবীকে ভবিষ্যতে ‘চিরকুট’ জায়গা করে দিবে। পরের দিন আমার সিনেমা মুক্তি পাবে, সেখানে আমাকে গুডউইস না করে,বরং এমনটি করছে। এমনও হয়েছে, শো হচ্ছে-কিন্তু আমি জানি না। আবার কেউ যদি আমার কথা জিজ্ঞেস করে, তাহলে বলেন-আমি ছুটিতে আছি। মানে টেকনিক্যালি আমার পেটে লাথি দেওয়া। মানে আমাকে হাতে না মেরে ভাতে মারার পরিকল্পনা।
তখন আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না তিনি আর আমার বড় আপার সম্মানের জায়গায় নেই। এছাড়া আরও হাজার খানেকের বিভিন্ন বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে, চাইলে সেগুলো দেখাতে পারব। বিষয়টা তো এমন না-আমি চিরকুটে ক্রিম খাওয়ার জন্যে গিয়েছিলাম? আমারও অনেক শ্রম আছে চিরকটু ‘চিরকুট’ হয়ে উঠার পিছনে। আমি আমার কাজটা স্বাধীনভাবে করতে চাই, তাই আমার এমন সিদ্বান্ত।
প্রিয়.কম: তবে, একটা বিষয়-এই সময়ের জনপ্রিয় এমন একটি ব্যান্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়া তো বেশ সাহসেরও বিষয় ছিল?
পিন্টু ঘোষ: জানি না চিরকুটের প্রথম অ্যালবামের ব্যাপার-স্যাপার কি? তবে ‘জাদুর শহর’ অ্যালবামের আটটি গানের সুর করা আমার। এখানে তিনি (সুমী) আমার সঙ্গে এক ধরনের চালাকি করেছেন। সুরকার তো ব্যান্ডের মধ্যেই পড়ে। তাই তিনি এর জন্য কোন টাকা পাবেন না। তাই শুধু গীতিকার টাকা পাবে। কারণ আটটা গানের লিরিক তার। টাকা নিয়ে তো আমি চিন্তা করি না। আর সবেচেয়ে বড় বিষয় আমি কুটিল বিষয়গুলো আমি নিতে পারি না। আমি সহ্য করতে পারি না। যারা করেন আমি তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।
প্রিয়.কম: কিন্তু এখন এমনও অনেককে বলতে শোনা যায়-পিন্টু নেই, চিরকুটও আগের মতো নেই-আপনি কিভাবে দেখেন বিষয়টিকে?
পিন্টু ঘোষ: আমার মনে হলো, যে কোন বিষয়ের শুরু হয় আসলে শেষ দিয়ে। যখন কেউ ধরে নেয়; ওকে আর দরকার নেই। আমি বলবো না তাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা শুনলে মনে হয় ‘চিরকুট’ ভুলই করেছে। এমনও হয়েছে শোর ফাইনাল মিটিং চলছে; যখন তারা শুনেছে চিরকুটে তো ওই ভাইটা (পিন্টু ঘোষ) নেই। তারপর তারা সেটি বাদ দিয়ে দিয়েছে। চিরকুট টেলিভিশনে শোও করেছে। কিন্তু চিরকুটের চিরকুটিয়ান কালারটা দেখি না। আমার মনে হয়; শ্রোতারা আমাদেরকে হয়তো এভাবেই দেখে অভ্যস্ত। যার কারণে বিষয়টা এমন মনে হয়েছে।
প্রিয়.কম: আপনি তো অনেক ধরনের যন্ত্র বাজাতে পারেন-আর আগে আপনার কণ্ঠের খেলা নিয়মিত শ্রোতারা শুনতে পেতেন না। সামনে কি নিয়মিত গান গাওয়ার কোন পরিকল্পনা আছে?
পিন্টু ঘোষ: আমি নিয়মিতই গানে কণ্ঠ দিতে চাই। কিন্তু আমার সাথে যেটা যায়। সবকিছু যে শতভাগ পারি কিংবা পারব বিষয়টি এমন নয়। আমি এখনও যাদের সাথে কাজ করি কিংবা করতেছি তাদের বলি; ভাই আমার দ্বারা যদি কাজ ভালো হয়-আমিও বুঝবো, আপনিও বুঝবেন। তার কারণে আমি কাজটি করতে পারব। কিংবা আগাবো। আর না হলে যে ওই কাজটা ভালো করতে পারবে। তাকে আমি কাজটা দিয়ে দেবো।
প্রিয়.কম: ভিন্ন প্রসঙ্গ; বর্তমানে বাংলাদেশে মিউজক চর্চা নিয়ে আপনার অবজারভেশনটা ঠিক কেমন?
পিন্টু ঘোষ: আমরা প্রচুর মিউজিক করতেছি, কিন্তু আমরা শিখছি কম। এক্সট্রাঅর্ডিনারি ব্যাপারগুলো খুব কম দেখতে পাচ্ছি। তবে বেশিরভাই মনে করে গান গাওয়া কিংবা মিউজিক করাটা অনেক সহজ। সহজটাকে স্বাভাবিক করার জন্য আসলে বেশ কিছুদিন আসলে থাকতে হয়। একটা ধারণ করার যে ব্যাপারটা আমি আসলে বিষয়টিকে এভাবে দেখি। সিনিয়র যারা রয়েছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি; নতুন যারা কাজ করছেন তদের মধ্যে আসলে ধৈর্য্য বিষয়টা কম। এক্সট্রাঅর্ডিনারি বিষয়ের উপর কিংবা স্কিলের উপর আসলে আরও অনেকে সময় দেওয়া উচিত।
প্রিয়.কম: এখন কি নিয়ে ব্যস্ত?
পিন্টু ঘোষ: দুটি চলচ্চিত্রের কাজ করছি। এরমধ্যে ‘হালদা’র পোস্টের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আর আমার মিউজিকের কাজ চলতেছে। ‘আহত ভুলের গল্প’ যেটি অন্তু আজাদ পরিচালনা করেছে। এটিরও পোস্টের কাজ শেষের দিকে। এরমধ্যে মাহমুদ দিদারের পরিচালনায় ‘বিউটি সার্কাস’ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। এছাড়া আরও দু-একটা কাজ করার কথা চলতেছে। এছাড়া আমি লাইভ শো করছি, ফোক ফিউশনাল টোনে। আগে এমনটা করতাম না।
প্রিয়.কম: তাহলে এখন কেন করছেন?
পিন্টু ঘোষ: আগে যেটা করতাম এখন আর সেটা করব না। আমার তো নিজেকে ভাঙার চেষ্টা সব সময় থাকে। তবে এ ইচ্ছেটা অনেক আগে থেকেই ছিল। আমি আমার কাজের দর্শনের জায়গা থেকে যেভাবে দেখি সেভাবেই করব। এটা লাইভের ক্ষেত্রেও।
প্রিয়.কম: শাহজালাল আর বাবা ভান্ডারিকে নিয়ে গান করবেন বলে শুনেছি?
পিন্টু ঘোষ: হুমম। আমি বাবা শাহজালালকে নিয়ে গানটা করেছি। এর কথা ও সুর আমার। আমার হাতের কাজগুলো মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেষ করব। এরপর পরই আমার দায়িত্ব আর সম্মানের জায়গা থেকে বাবা ভান্ডারিকে নিয়ে গানটা করব। যেটা একটু সারপ্রাইজিং হবে।
প্রিয়.কম: প্রিয়কে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
পিন্টু ঘোষ: প্রিয়.কমকেও।
সম্পাদনা: গোরা