জনতা টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলন করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাউভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি)।

স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে নীতিমালা সংশোধনের দাবি

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯, ১৫:৫৮
আপডেট: ২০ জুন ২০১৯, ১৫:৫৮

(প্রিয়.কম) স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে নীতিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাউভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি)।

২০ জুন, বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় স্থানীয় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করা এই সংগঠনটি।

একই সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজার্স ও হাই নেট-ওয়ার্থ ইন্ডিভিজ্যুয়াল (এইএনআই) ইনভেস্টরদের ট্যাক্স মওকুফ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ছাড়ের দাবি জানায় সংগঠনটি।

অনুষ্ঠানে ভিসিপিইএবি’র চেয়ারম্যান ও পেগাসাস টেক ভেঞ্চারের জেনারেল পার্টনার শামীম আহসান জানান, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সম্পর্ক উল্লেখজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পলিসি সহায়তা পায়।

তিনি বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং প্রায়শই ক্ষুদ্র ও নতুন কোম্পানির একমাত্র অর্থনৈতিক উৎস হিসেবে কাজ করে। অতি প্রয়োজনীয় অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট রুলস, ২০১৫ এবং অন্যান্য রেগুলেটরি সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা স্বীকার করি। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি খাতের প্রয়োজন মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-ও খুবই আন্তরিক। অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজার্স ও হাই নেট ওর্থ ইন্ডিভিজ্যুয়াল (এইএনআই) ইনভেস্টরদের ট্যাক্স মওকুফ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ছাড়ের পলিসি সহায়তা পেলে এই খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে।’

সংগঠনটির মহাসচিব এবং বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি খাতটি এখন বর্ধনশীল পর্যায়ে রয়েছে। অল্টারনেটিভ ফান্ড ম্যানেজারদের আয়কর আগামী ১০ বছরের জন্য পুরোপুরি অব্যহতি কিংবা আয়করের হার কমানো হোক, আমরা সরকারের প্রতি এই দাবি জানাই।’

‘একটি ভিসিপিই প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রধান ব্যবসায় থেকে আয় পেতে সাধারণত এই সময়ের প্রয়োজন হয়। এর আগে খুবই সামান্য পরিমানে আয় হয়, যা দিয়ে কোম্পানিকে শুধুমাত্র চলমান রাখা সম্ভব। এই ছোট্ট আয়ে ট্যাক্স থাকলে সেটি এই খাতের জন্য খুবই সর্বনাশ হবে’, যোগ করেন তিনি।

ভিসিপিইএবি পরিচালক এবং মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়ালী-উল মারুফ মতিন বলেন, ‘অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ছাড়া সরকার, বিশেষ করে বিএসইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশন যেভাবে প্রচার চালাচ্ছে; আমাদের উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়া অধরাই থেকে যাবে। যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। যদিও, তাদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হলো ব্যবসায় সহজসাধ্যতা এবং আমাদের নিজস্ব স্থানীয় অংশগ্রহণ। শুধু নিজের ব্যবসায়ের জন্য নয়, আমরা সব করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বিত্তশালীদের দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইক্যুইটি ফান্ডের গঠনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। এটি জাতীয় বিষয়, নিজের এবং আমাদের সকলের।’

প্রিয় প্রযুক্তি/আশরাফ