আম্পায়ারের সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলির বাকবিতণ্ডা। ছবি: সংগৃহীত

এবারের আইপিএলে আম্পায়ারের পাঁচ ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯, ২০:১৬
আপডেট: ১৫ মে ২০১৯, ২০:১৬

(প্রিয়.কম) শুরু হতে-না-হতেই নানা বিতর্ক ঘিরে ধরেছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১২তম আসরকে। প্রথম ম্যাচে সমালোচনা হয় উইকেট নিয়ে। সেটার সুরাহা হওয়ার আগেই কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন ঘটান মানকাড কাণ্ড। এর মধ্যেই উত্তাপ ছড়ায় স্লেজিং। চেন্নাই সুপার কিংসের ওপেনার শেন ওয়াটসনের সঙ্গে রীতিমতো বিবাদে জড়ান দিল্লি ক্যাপিটালসের দুই পেসার ইশান্ত শর্মা ও কাগিসো রাবাদা।

এরপর আম্পায়ারের চোখ এড়িয়ে যায় লাসিথ মালিঙ্গার নো বল। এটা নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। এই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে। এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টের এবারের আসরে আম্পায়ারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এমনকি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিও বিতর্কের হাত থেকে বাদ যায়নি।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ: মুম্বাইয়ের ইনিংসের শেষ ওভারে ‘ওয়াইড বল’ না ডাকায় মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাইরন পোলার্ড। ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেননের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জনিয়ে ব্যাট পর্যন্ত ছুড়ে মারেন মুম্বাইয়ের এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানানোর কারণে তাকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়।

গ্রুপ পর্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচ: এই ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গার বলে ‘নো বল’ না দেওয়ায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এদিন শেষ বলে জয়ের জন্য সাত রানের দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর। কিন্তু শেষ বলে মাত্র ১ রান খরচ করেন মালিঙ্গা। ম্যাচ শেষে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি ডেলিভারি করার সময় মালিঙ্গা ওভারস্টেপ করেন। কিন্তু পুরো বিষয়টি আম্পায়ার সুন্দরম রবির চোখ এড়িয়ে যায়।

গ্রুপ পর্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচ: হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন বেঙ্গালুরুর পেসার উমেশ যাদবের একটি বলে ‘নো’ ডাকেন আম্পায়ার নাইজেল লং। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি করার সময় উমেশের পা পপিং ক্রিজের ভেতরে ছিল। এ নিয়ে মাঠের মধ্যেই আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাদের মধ্যে অনেকক্ষণ কথা কাটাকাটিও হয়।

গ্রুপ পর্বে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যকার ম্যাচ: কলকাতার দেওয়া ২২৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট করছিলেন মুম্বাইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কিন্তু প্রতিপক্ষের বোলারদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। রিভিউতে দেখা যায়, অল্পের জন্য এলবিডব্লিউর হাত থেকে বেঁচে গেছেন রোহিত শর্মা। কিন্তু আম্পায়ার্স কল তার বিপক্ষে থাকায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

গ্রুপ পর্বে চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যকার ম্যাচ: চেন্নাইয়ের ইনিংসে একটি হাই ফুলটস বলে ‘নো’ ডেকেও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন আম্পায়ার। এই ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মেজাজ হারান চেন্নাইয়ের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। শুধু তা-ই নয়, ডাগ আউট থেকে মাঠে ঢুকে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কেও জড়িয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন কুল। শেষ পর্যন্ত বলটি বৈধ বলেই গণ্য করা হয়। এই ঘটনায় ধোনিকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা পর্যন্ত গুণতে হয়েছে।

প্রিয় খেলা/রিমন

আরো পড়ুন