ছবি: Listverse

মোহাম্মদ আলীর অজানা ৭

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৫৯
আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৫৯

(প্রিয়.কম) বক্সার মোহাম্মদ আলী ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। শুধু যে বক্সিং প্রতিভার কারণে তিনি বিখ্যাত, এমনটা নয়। সমাজসেবায় ভীষণ সোচ্চার ছিলেন তিনি। আর নিজের প্রতিযোগী বক্সারদের বিদ্রূপ করে লেখা তার  কবিতাও ছিল বেশ জনপ্রিয়। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারিতে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি।  তার জীবনের অজানা কিছু দিক তুলে ধরা হলো আজ। 

সাইকেল

১) সাইকেল চুরি থেকে বক্সিং শুরু

বিখ্যাত হয়ে ওঠার আগে মোহাম্মদ আলী (তখন তার নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে) ছিলেন আর দশজনের মতই সাধারণ। ১২ বছর বয়সে বাবা ক্রিসমাসে তাকে একটি সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। সাইকেল নিয়ে বের হয় তিনি বন্ধুদের সাথে সারাদিন কাটান। কিন্তু বাড়ি যাবার সময়ে দেখেন চুরি হয়ে গেছে সেই সাইকেল! রাগে কাঁদতে কাঁদতে স্থানীয় পুলিশ অফিসার জো মার্টিনের কাছে যান তিনি। চোরকে খুঁজে পেলে তাকে আচ্ছামত ধোলাই দেবেন বলে তাকে জানান। শুকনো লিকলিকে মোহাম্মদ আলীর দিকে তাকিয়ে মার্টিন বলেন “বাছা, আগে মারতে শেখো”। পুলিশ রিপোর্ট করার পর মোহাম্মদ আলীকে জিমে ভর্তি করিয়ে দেন মার্টিন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ছয় সপ্তাহ পর স্থানীয় টিভিতে দেখানো হয় মোহাম্মদ আলীর প্রথম জয়। মজার ব্যাপার হলো, আলীর হারানো সেই সাইকেল কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২) বিমান যাত্রা ভয় পেতেন আলী

১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকসের যাত্রা বিমানে করতে হবে, এটা বোঝার সাথে সাথে ভয় পেয়ে যান আলী। জাহাজে করেও যাওয়া যাবে না, এটা জানার পর তিনি সেই অলিম্পিকে যাওয়া বাতিল করেই দিচ্ছিলেন প্রায়। সৌভাগ্যক্রমে জো মার্টিন তাকে বুঝিয়েসুঝিয়ে প্লেনে তুলে দেন। পুরো রাস্তা আলী পিঠে প্যারাসুট পরে ছিলেন। 

মেডেল

৩) গোল্ড মেডেল হারিয়ে ফেলেন তিনি

১৯৬০ সালের লাইট হেভিওয়েট গোল্ড মেডেল জেতার পর এতই গর্বিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী, তিনি সবজায়গায় তা পরে যেতেন। কিন্তু এর পরেও বর্ণবৈষম্য তার পিছু ছাড়েনি। একদিন তিনি এমন এক রেস্টুরেন্ট যান যেখানে শুধুই শ্বেতাঙ্গদের খাবার দেওয়া হত। গলায় অলিম্পিক মেডেল থাকা সত্ত্বেও আলীকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। তখন তিনি বুঝতে পারেন বর্ণবৈষম্য এত সহজে তার পিছু ছাড়বে না। তিনি গোল্ড মেডেলটা হারিয়ে ফেলেন বটে, কিন্তু নিজের আত্মকথনে দাবি করেন তিনি বর্ণবৈষম্যের রাগে দুঃখে নিজের ইচ্ছায় নদীতে তা ফেলে দিয়েছিলেন। তার এই তথ্যটি ভুল হলেও তার আবেগ অনেককে স্পর্শ করে। 

৪) আলীর সঙ্গীত

১৯৬৪ সালে কলাম্বিয়া রেকর্ডস থেকে আলীর প্রথম অ্যালবাম বের হয়, যার নাম ছিল ‘আই অ্যাম দি গ্রেটেস্ট’। মূলত তার নিজের লেখা কিছু কবিতা ছিল সেই অ্যালবামে। এতে একদিকে তিনি নিজের গুণগান করেন, আরেকদিকে আসন্ন প্রতিযোগী সনি লিস্টনের পরাজয় কামনা করেন। অ্যালবামের শেষে তাকে গান গাইতেও শোনা যায়। তবে তিনি ধর্ম এবং নাম পাল্টে ফেলার পর কলাম্বিয়া রেকর্ডস তা সরিয়ে ফেলেন। এরপরেও অবশ্য একটি অ্যালবাম রিলিজ করেন আলী। 

৫) জাদুকর আলী

বক্সিং রিংকে দুই মুঠির জাদু নয়, আদতেই জাদু দেখাতে ভালোবাসতেন আলী। একটা স্কার্ফ অথবা কয়েন দিয়েই চলত তার এই হাতসাফাই। সিল্কের রুমাল হাওয়া করে দিতেন তিনি, অর্ধেক কয়েন আবার আগের মত হয়ে যেত। এমনকি হাওয়ার ভাসার অনুশীলন করতেন তিনি, যা দেখে ডেভিড কপারফিল্ড পর্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। তবে তার এই ম্যাজিক কীভাবে করেন, সেটাও তিনি দর্শকদের বলে দিতেন। 

সুপারম্যান

৬) সুপারম্যান বনাম মোহাম্মদ আলী

সুপারম্যানের কমিক বইতে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরা হয়। তবে মোহাম্মদ আলীর সাথে সুপারম্যানের লড়াইয়ের সাথে কোন কিছুরই তুলনা হয় না। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত এই কমিক খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল সে সময়ে। 

৭) তিনি ইরাক থেকে বন্দী মুক্ত করেছিলেন

১৯৯০ সালের শুরুর দিকে সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণ করেন। এ সময়ে ২০০০ হাজার মানুষ জিম্মি করেন তিনি। তাদেরকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন মোহাম্মদ আলী। সে সময়ে তার অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। বক্সিং থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন, এর পাশাপাশি পারকিনসন্স রোগ কাবু করে ফেলেছিল তাকে। তার লড়াকু মনোভাব কিন্তু এতে দমে যায়নি। বাগদাদে পৌঁছে সাদ্দামের সাথে ৫০ মিনিট কথা বলেন তিনি। বন্দীদেরকে ছেড়ে দেওয়াটাই ভাল হবে, সাদ্দামকে তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি বেশ কিছুদিন ইরাকে ছিলেন। অবশেষে ১৫ জন আমেরিকান বন্দীকে ছেড়ে দেন সাদ্দাম।

সূত্র: Listverse

প্রিয় লাইফ/ আর বি