মিশা সওদাগর। ছবি: সংগৃহীত।

হিন্দি গান গেয়ে সমালোচিত মিশা, পোস্টটি শেয়ার দিয়েছেন ওমর সানিও

শিবলী আহমেদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০১৭, ১৮:২৬
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৭, ১৮:২৬

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগর। একটি অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গিয়েছে হিন্দি গান গাইতে। এই নিয়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি।বিষয়টির সমালোচনা করে মোহাম্মদ তারেক নামক একজন ব্যক্তি ‘প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী (মৌসুমী) FANCLUB’ নামক একটি ফেসবুক পেজে দিয়েছেন একটি পোস্ট। মোহাম্মদ তারেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর পদে রয়েছেন। তিনি তার সমালোচনায় যা লিখেছেন, সেই বক্তব্যটি বর্ণ, বাক্য ও বিরামচিহ্ন অপরিবর্তিত রেখে এখানে তুলে দেওয়া হলো: ‘আমাদের দেশ বাংলাদেশ। আমাদের ভাষা বাংলা। এ ভাষার জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। যখন বাংলা কোন শব্দ, কোন বাক্য ভিনদেশী কেউ উচ্চারণ করে তখন গর্ববোধ হয়। অন্যদেশে যখন কেউ বাংলায় কথা বলে, গান গায় তখন নিজের অজান্তে চোখে জল আসে। সবই হয় ভালোবাসার জন্য। মাতৃভাষা, মাতৃভূমিকে ভালোবাসার জন্য।

আমাদের সবার অনেক পছন্দের ক্ষেত্র আছে। একটা প্রজন্ম শৈশব থেকে হিন্দী ছবি, ছবির গান দেখে বড় হয়েছে। আমার ক্ষেত্রে অবশ্য তা পুরোটা সত্য নয়। আমি শৈশবে বাংলা ছবির গান যত‌োটা দেখেছি হিন্দী গান ততোটা নয়। আমার আগের প্রজন্মের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্য হবার কথা। সমস্যাটা হয় নব্বইয়ের শেষে আর দুহাজারের শুরুতে। নতুন শতাব্দীর প্রজন্ম হিন্দীতে ডুবে গেছে প্রবলভাবে। হিন্দী সিরিয়াল, হিন্দী সিনেমা দেখা, হিন্দী নায়ক-নায়িকাকে আইডল মানা সব হয়েছে এসময়ে। কারন এসময়ে বাংলা সিনেমার ছিল চরম ক্রান্তিকাল। পরিবার নিয়ে ছবি দেখছেনা কেউ, চারদিকে অশ্লীলতা। যারা ছিলেন সুস্থ ছবির মূল কারিগর তারাও দিশেহারা। মন্দ মানুষের সংখ্যাটা যেন বেশি হয়ে যাচ্ছিল। এতে আমাদের নিজেদের অবদান কী কম? আমাদের কতিপয় শিল্পীও কি হিন্দীর জন্য গদগদ হয়ে থাকতো না? ভারতীয় স্টাররা দেশে নাচতে এলে তাদের দেখার জন্য মাটিতে বসতেও আমাদের লজ্জা হয়নি। আমাদের সুন্দর সব গান বাদ দিয়ে তাদের গান গাইতেও আমাদের বুকে বাঁধেনি। আমাদের কত সুন্দর সুন্দর গান আছে যা বর্তমানে নিজেরা হিন্দী করছে। আমাদের সুরকার, গীতিকার, শিল্পীরা জীবন সায়াহ্ণে ধুঁকে মরছে।

যারা বিভিন্ন স্টেজে পারফর্ম করে তাদেরও কিছু কর্তব্য আছে। দেশকে, দেশের ভাষাকে সবার সামনে তুলে ধরতে হয়। একজন স্টার যখন বাংলা নিয়ে কথা বলে, বাংলা ভাষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরে তখন মানুষ তাকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখবে। ভিনদেশী ভাষায় যে গায় তারচেয়ে তো বেশী অবশ্যই। গতবছর সম্ভবত বাংলাদেশে কারিনা কাপুর আসার কথা ছিল, সাথে থাকার কথা ছিল অনন্ত জলিলের। তো জলিল সাহেবকে যখন কারিনার কথা বলা হলো তখন উনি বলেছিলেন মানুষ তাকে দেখতে আসবে কারিনাকে নয়। এটাই তো গর্বের কথা। একজন কারিনার চেয়ে বাংলাদেশী অনন্ত জলিলের পারফরম্যান্সের মূল্য আমাদের কাছে বেশী হবার কথা। এটাই দেশপ্রেম।

আমি একটি ভিডিও শেয়ার করছি পোস্টে। যেই ভদ্রলোক অমিতাভ বচ্চনের পুরনো একটি চটুল হিন্দী গান গাইছেন তিনি কে সেটা আর আমাদের খোলাসা করার দরকার নেই। হিন্দী ছবির, যৌথ প্রযোজনা ছবির বিরোধিতা করার পর কিংবা আগেও হতে পারে এভাবে সবার সামনে হিন্দী গানের তালে নর্তন কুঁদন কতোটা দৃষ্টিনন্দন ? আমি নিজে যা করি তার বিরোধীতা করা কী আমার সাজবে ? স্ববিরোধী কান্ডে নিজেকে হাসির পাত্র করে কী লাভটা হচ্ছে?

শিল্পী সমিতির সভাপতি হয়ে হিন্দী গানকে প্রমোট করে উনি আমাদের কী ছোট করছেন না ? আমাদের কালজয়ী কোন গানকে কী প্রমোট করা যেত না? বাংলাদেশের শিল্পকে ভালোবাসলে এমন কান্ড করা যেত না। আমরা কী এমন কাউকে চেয়েছিলাম শিল্পী সমিতির সভাপতি হিসাবে? প্রশ্ন রইলো বিবেকবান দর্শকের প্রতি।

মোহাম্মদ তারিকের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিন শট।

এদিকে মিশা সওদাগরের কণ্ঠে গাওয়া হিন্দি গানের সমালোচনা করে মোহাম্মদ তারেকের দেওয়া পোস্টই  নিজ ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দিয়েছেন ওমর সানি। নিচে দেখুন তার স্ক্রিন শট।

মিশা সওদাগরের কণ্ঠে গাওয়া সেই গানটি শুনুন এখানে:

ভিডিওটি সংগৃহীত।

প্রিয় বিনোদন/গোরা