রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। ছবি: প্রিয়.কম
মোশতাক সরকারের শপথ পড়িয়েছিলেন এইচ টি ইমাম: রিজভী
আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৫
(প্রিয়.কম) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারের শপথ পড়িয়েছিলেন জানিয়ে তাকে পলাশীর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খানের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
৫ ডিসেম্বর, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
এইচ টি ইমামের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্লু-প্রিন্টের কুখ্যাত কারিগর এইচ টি ইমাম যে তালিকা সিইসিকে দিয়েছে, তা-ই বৈধ বলে প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং অফিসাররা। এই এইচ টি ইমাম সরকারের সকল কুকর্মের হোতা। তবে এখনো আওয়ামী লীগের বোধোদয় হচ্ছে না যে, এই এইচ টি ইমাম যেকোনো মুহূর্তে চোখ উল্টে দিতে পারে; যেমন পচাত্তরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। শপথ পড়িয়েছিলেন মোশতাক সরকারকে।’
‘তিনি যদি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের এতটাই অনুসারী ও ভক্ত হতেন, তাহলে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। মীর জাফরের সকল গুণই এই এইচ টি ইমামের মধ্যে বিদ্যমান।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়নি বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন কমিশন খোলস ভেঙে তাদের আওয়ামী চেহারাটা ততটাই উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগেই সম্ভবত ক্ষমতাসীন দলের বিজয় নিশ্চিত করতে নানা রকম কলা-কৌশল ফন্দি-ফিকির করছে কমিশন।’
‘এর একটি ড্রেস রিহার্সেল হয়ে গেল, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের মধ্য দিয়ে। বিএনপির প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র কেবল যাচাই-বাছাই হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে গণহারে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়নি। বিষয়টি এমন ছিল যে, বিএনপি হলেই অবৈধ আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেই বৈধ।’
নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছকের মধ্য থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা কাজ করছেন মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সরকারের মনোবাঞ্ছা বাস্তবায়ন করার পর এখন মাঠের নিয়ন্ত্রণ যাতে ক্ষমতাসীন দলের হাতেই থাকে, সে জন্য নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো পর্দার অন্তরালে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।’
‘গাজীপুর, রাজশাহী ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা এমন পরিস্থিতি দেখেছি। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন এমপির দাপট তো থাকবেই। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপে ক্ষমতাসীন দল জোরালো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা প্রশাসনে রদবদলের দাবি করে এলেও মনে হয় আসহাবে কাহাবের মতো ইসি দীর্ঘকাল ঘুমিয়ে থাকবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার জন্য রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হলেও এক কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়েও বৈধতা পেল আওয়ামী লীগ জোটের বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। ব্যাংকের লোক গিয়ে আপত্তি জানালেও রিটার্নিং কর্মকর্তা তা আমলে নেননি। রিটানিং কর্মকর্তা তা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেছেন।’
‘বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের আয়কর রিটার্নের নানাবিধ অসঙ্গতি থাকার পরও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করেছে রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নে ব্যবসায়িক আয় অপ্রদর্শিত। এ কে এম শাহজাহান কামালের আর্থিক বিবরণী দাখিলকৃত হলফনামার সাথে কোনো মিল নেই। তার পরেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। জনগণের অধিকার নিয়ে এত জুলুম করার কারণে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ইসি সচিব হেলালুদ্দীন।’
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের পিস্তলধারী একজন দেহরক্ষী রয়েছেন। তা সত্ত্বেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে এবং নির্বাচনোত্তর কিছু সময়ের জন্য তিনি শটগানসহ আরেকজন দেহরক্ষীর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন।
এই বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘তার (হেলালুদ্দীন আহমদ) সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত থাকলেও ভরসা পাচ্ছেন না। তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও বাড়াতে চান। সেই লক্ষ্যে পিস্তলধারী নয়, এবার শটগানধারী একজন নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন।’
‘হেলালুদ্দীন সাহেব এসির মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দাবি করছেন ভালো কথা। কিন্তু জনগণের নিরাপত্তার কথা কি একবার বিবেচনা করছেন? কোনো ভোটার এখনো নিরাপদ নয়। ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটাররা শঙ্কিত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’
সারা দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের যে তালিকা সরবরাহ করছে, সেগুলোই ইউএনওদের মানতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
প্রিয় সংবাদ/শিরিন/আজহার