বিজেপির গরু রাজনীতি ও সংখ্যালঘুদের সংকট

বিডি নিউজ ২৪ ড. বুলবুল সিদ্দিকী প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ১৯:০৯

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও অন্যান্য নিগ্রহ যেন এই সমাজের গভীরে প্রোথিত একটি বিষয়। আমাদের সামাজিক পরিসরে এই সমস্যাগুলো কেন বাড়ছে এবং কেন কোনো সরকার এর প্রতিকার করতে পারছে না, সে বিষয়ে আমরা যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেখি না।


যে ব্যাখ্যাগুলো আমরা সচরাচর দেখে থাকি, তার মধ্যে দুটি বড় প্রবণতা দেখা যায়। এক পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে ধর্ষণ ও নিগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা।


বিশেষ করে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অধিকাংশ সময় নির্যাতিত ব্যক্তি বা পরিবার বুঝে যায় যে ধর্ষণের প্রকৃত বিচার পাওয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। যার ফলে বিচার না পাওয়া বা না হওয়ার প্রবণতাকে একপর্যায়ে সমাজের মানুষের মেনে নিতে বাধ্য হওয়া।


তাইতো পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুটির বাবা আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই।’


শিশুটির বাবার এই আহাজারিই নিশ্চিত করে মানুষের মধ্যে বিচার চাওয়ার এবং প্রতিকারের তাগিদ থাকলেও সেটি যে তারা পাবে তা তাদের কাছে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।


একটা সময় ধর্ষণ এবং নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনসহ হত্যার মতো সব হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো আরও নানা ঘটনার আড়ালে চাপা পড়ে যায় এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তিও আমরা খুব একটা দেখতে পাই না।


আর যতটুকু বিচার আমরা হতে দেখি, সেটি তাদেরই হয় যাদের ক্ষমতা কম বা নেই এবং যারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল সামাজিক বর্গে অবস্থান করে। বিগত সময়ে আমরা এ–ও দেখেছি, সব ঘটনা তথাকথিত ভাইরাল হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানের দৃষ্টিগোচর হয়, সেই ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়া সহজ হয়, যা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।


ফলে কার বিচার হবে বা না হবে তা মূলত নির্ভর করে কার ক্ষমতার বলয় ও ব্যাপ্তি কতটা। তাই বিচারহীনতা ও বিচার প্রাপ্যতার বিষয়টি শ্রেণিগত বিষয়ও বটে। ফলে আইনের তার নিজস্ব গতিতে চলার মাধ্যমে বিচারের নিশ্চয়তা এই রাষ্ট্র এখনো দিতে পারেনি।


তাহলে কি আমরা ধরে নেব, পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো বেড়ে চলছে?


এর পেছনে যে আরও জটিল মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক ও ধর্মীয় পরিসরের নৈতিক শিক্ষার অকার্যকর ব্যবস্থা দায়ী, সেটিও আমাদের বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে। নৈতিক শিক্ষা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করার কথা। কেননা এই দুই পরিসরই আমাদের নৈতিক শিক্ষার অন্যতম দুটি পরিক্ষেত্র।


সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যায়, নৈতিক শিক্ষাই একজন নাগরিককে তার সমাজে বসবাসের জন্য যোগ্য করে তোলে।


নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সামাজিক ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ, কেননা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (বা সোশ্যাল কন্ট্রোল) আইনের প্রয়োগ থেকেও অনেক সময় কার্যকর একটি ব্যবস্থা হতে পারে।


তাই এখানে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি, মিশেল ফুকো যেমন করে বলেছিলেন, শাস্তির বিধানের চেয়ে আধুনিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তির আচরণকে একটি নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও