মুরগি ও মাছ চাষ। ছবি : সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষণার পরেও মাছের খাদ্যে মুরগির বিষ্ঠা

আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০১৮, ১১:২৩
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০১৮, ১১:২৩

(প্রিয়.কম) মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এর পরেও অনেক খামারেই মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ও আবর্জনা ব্যবহার করা হয়। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

মাছ চাষ ও ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ পান না বলে অভিযোগ দেশের মাছ চাষিদের। তাই খাদ্য প্রস্তুতকারী বিভিন্ন কোম্পানির পরামর্শেই তারা খামারে বিভিন্ন রাসায়নিক এমনকি এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও মাত্রা নির্ধারণ করেন।

মাছের খামারের একজন মালিক মোস্তাফিজ রাজু। তিনি বলেন, ‘ আমাদের এলাকায় খাদ্য অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা আসেন না, আমিও অধিদফতরে কোনো পরামর্শের জন্য যাই না।

পানি ঠিক রাখার জন্য আমরা পটাশ কিংবা চুন ব্যবহার করি। কোম্পানির লোকেরা এসে বলে দেয় খামারে কিভাবে, কতটুকু ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। অনেক সময় অভিজ্ঞ খামারিদের পরামর্শ নেই।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালের পোড়াবাড়ি এলাকায় মাছের খামারের সঙ্গে সঙ্গে মুরগির খামারও গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও অন্যান্য আবর্জনা ধুয়ে নালায় ফেলছেন কয়েকজন কর্মচারী।

ত্রিশালের এই মুরগির খামারের বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ত্রিশালের এই মুরগির খামারের বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছবি : সংগৃহীত

এইসব বিষ্ঠা ও আবর্জনা পরে নালা হয়ে খামারে চলে যায় মাছের খাদ্য হিসেবে। খামারের একজন কর্মচারীর জানান, গত সাত বছর ধরেই এই খামারে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করেন তারা। এতে মাছের খাবারের পেছনে তাদের ব্যয় অনেকটাই কমে যায়।

তবে এভাবে বিষ্ঠা ব্যবহার করে মাছ চাষ যে নিষিদ্ধ সেটা জানেন না এই খামারের কেউই। ত্রিশালেই আরও অন্তত তিনটি মাছের খামার চোখে পড়ে যেখানে খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার হয়।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক গোলজার হোসেন জানান, মুরগি পালনে নানা রকম এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। এগুলো মুরগির বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। যা ধ্বংস হয় না। মাছের মাধ্যমে এই এন্টিবায়োটিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

গোলজার হোসেন বলেন, ‘কয়েকবছর আগেই মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা সরকার নিষিদ্ধ করেছে। খামারিরা অনেক সময় নিজেদের ইচ্ছেমতো কিংবা ফিশ ফিড কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করেন। আমরা জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘ফিশ ফিড কোম্পানির উৎপাদিত মাছের খাবার আমরা নিয়মিত পরীক্ষা করি। ক্ষতিকর কিছু কিংবা প্রয়োজনীয় উপাদান পেলে ব্যবস্থা নিই।

এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মাছের খামারিদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়। এতে খামারিদের বলে দেওয়া হয় মাছের খাবার এবং ওষুধ কিভাবে, কোন পরিমাণে দিতে হবে।’

সূত্র : বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/রুহুল