ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে সুগার বিট চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:০৮
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৬, ২০:০৮

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশে অপ্রচলিত অর্থকরী ফসল হিসেবে সুগার বিট চাষে সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের অপ্রচলিত সবজি চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা পাওয়া গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশের চিনি চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হবে। 

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় বাংলাদেশ চিনি গবেষণা কেন্দ্র (বিএসআরআই) পরিচালিত গবেষণায় এ ধরনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। 

বিএসআরআই এর গবেষক ড. খলিলুর রহমান এ ফসলের বৈশিষ্টগলো উল্লেখ করে বলেন, আমরা গত ২০০২ সাল থেকে সুগার বিট চাষের সম্ভাবনার ওপর গবেষণা করছি এবং গবেষণায় আশানরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে। 

তিনি জানান, সুগার বিট গাছ একটি গোলাকার সক্রোজ জাতের এবং এটির ভিতরে ঘনত্ব খুব বেশি হয় এবং এটি বড় আকার হলে বাণিজ্যিকভাবে চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশ্বে চিনি উৎপাদনে ব্যবহৃত ফসলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। চিনি উৎপাদন ছাড়াও এটি ওষুধের সিরাপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি বয়ো গ্যাস এবং গবাদী পশুর খাদ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় বলে জানান ড. খলিল।

তিনি বলেন, একটি সুগার বিট পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ মাস যেখানে আখ বড় হতে সময় নেয় ১২ থেকে ১৪ মাস। অপরদিকে সুগার বিট থেকে চিনি আহরণের পরিমান ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং আখ থেকে চিনি আহরণের পরিমান ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

তিনি জানান, এর আগে সুগার বিট চাষের সম্ভাবনার ওপর দেশের ১৬ টি স্থানে ‘বাংলাদেশে সুগার বিট চাষের প্রযুক্তি’ নামক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প পরিচালক ড. খলিল জানান, এক হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ৮৮ থেকে ১৩৩ টন সুগার বিট উৎপাদন করা সম্ভব। পাশাপাশি, জমি ব্যবহার এবং পানির সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে শীতকালে গ্রীষ্মমন্ডলীয় সুগার বিট চাষ টেকসই কৃষির জন্য একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। 

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ১৪টি চিনি কলের অধীনে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আখ চাষের জমি রয়েছে এবং যদি এই জমিতে সুগার বিট চাষ করা হয় তবে ৪.৮ লাখ টন সুগার বিট প্রতিবছর উৎপাদন করা সম্ভব। যার মাধ্যমে এ সকল চিনি কল থেকে বছরে ২শ’ ৬৪ কোটি টাকার ৪৮ হাজার টন চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বাসস