বউ থাকলে এক, দূরে থাকলে আরেক: স্বামীদের এই আচরণের আসল রহস্য কী?
অনেক স্বামী আছেন, যাদের স্ত্রী বাড়িতে থাকলে বন্ধুদের খোঁজও নেন না, এমনকি স্ত্রীর পছন্দের মানুষদের বেশি সময় দেন।
তবে স্ত্রী যখনই কয়েক দিনের জন্য বাপের বাড়ি বা কাজের সূত্রে দূরে যান, তখনই সেই স্বামী হুট করে পুরানো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
আপাতদৃষ্টিতে একে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ বা ফাঁকিবাজি মনে হতে পারে। তবে মনোবিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায়, এর পেছনে গভীর কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।
কেন এমন আচরণ করেন স্বামীরা?
সম্পর্ক ও সমাজবিজ্ঞানীরা এই আচরণের পেছনে থাকা মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলোকে সুনির্দিষ্ট কিছু ‘থিওরি’ বা গবেষণার সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন।
ভূমিকা পরিবর্তন ও 'গ্রিডি ম্যারেজ থিওরি’: সমাজবিজ্ঞানে বিবাহিত দম্পতিদের একটি আচরণকে ‘গ্রিডি ম্যারেজ’ বা ‘লোভী বিবাহ সূত্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেলর ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘ইউটা স্টেট ইউনিভার্সিটি’-র গবেষকদের করা একটি সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের পর দম্পতিরা অবচেতনভাবেই একে অপরের প্রতি এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েন যে, তারা তাদের চারপাশের বন্ধুবান্ধব বা সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন। একেই বলা হয় ‘গ্রিডি ম্যারেজ’।
স্ত্রী যখন পাশে থাকেন, তখন স্বামী এই সামাজিক নিয়মের অদৃশ্য চাপে ‘সংসারি ও আদর্শ স্বামী’র ভূমিকা পালন করেন এবং স্ত্রীর পছন্দকে অগ্রাধিকার দেন। তবে স্ত্রী দূরে গেলেই সেই ‘লোভী প্রাতিষ্ঠানিক’ চাপ সাময়িকভাবে উবে যায় এবং তারা দ্রুত নিজেদের পুরানো মুক্ত ভূমিকায় ফিরে যান।
মানসিক শক্তি ও সামাজিক সংযোগের সংকোচন: মনস্তাত্ত্বিক-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত এক গবেষণামূলক নিবন্ধে বলা হয়েছে, অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিত ব্যক্তিরা, তাদের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সামাজিক মেলবন্ধন প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেন।
সারাক্ষণ বৈবাহিক সম্পর্কের ভেতর সামাজিক ও পারিবারিক নিয়ম মেনে চলতে চলতে পুরুষদের মনে এক ধরনের ‘আবেগীয় ক্লান্তি’ বা ‘এনার্জি ড্রেইন’ তৈরি হয়।
স্ত্রী যখন কয়েক দিনের জন্য দূরে যান, তখন তারা এই সামাজিক শূন্যতা পূরণ করতে এবং নিজেদের মানসিক শক্তি ফিরে পেতে বন্ধুদের আড্ডাকে একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন।
বন্ধুদের হারানোর ভয় বা ‘পিয়ার রিজেকশন’: গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মনে বন্ধুদের সামাজিক বৃত্ত থেকে ছিটকে যাওয়ার একটি তীব্র সুপ্ত ভয় কাজ করে। যখন স্ত্রী বাড়িতে থাকেন না, তখন সেই সময়টিকে স্বামীরা বন্ধুদের সঙ্গে নষ্ট হতে যাওয়া সম্পর্ক ঝালাই করার একটি ‘সোনালি সুযোগ’ হিসেবে দেখেন। যাতে বন্ধুরা তাকে পর ভেবে দূরে ঠেলে না দেয়।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- দাম্পত্য জীবন
- দ্বিমুখী নীতি