ছবি সংগৃহীত

দেশীয় ফ্যাশনে অপরিহার্য ওড়না

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৩, ০৫:০৬
আপডেট: ১০ জুন ২০১৩, ০৫:০৬

একফালি কাপড়ের এই টুকরোটি নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। একসময় শুধুমাত্র শালীনতা রক্ষার কাজে ওড়না ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ওড়না ফ্যাশনের একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। ওড়নার আকার, রং, নকশা এবং সেইসাথে ওড়না পরার ধরনের নির্ভর করে একজন নারীর নিজস্ব স্টাইল। কয়েক বছর আগেও কামিজ বা সালোয়ারের সাথে মিলিয়ে ওড়না ব্যবহারের চল থাকলেও এখন হালে চলছে ওড়না নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী ফ্যাশন। তাই পোশাকের সাথে রং মিলিয়ে পরা বা কনট্রাস্ট রঙের ওড়নার পাশাপাশি চলছে ফিউশনধর্মী ওড়নার ব্যবহারও! যেমন সাদা-কালো প্রিন্টের কামিজের সাথে মিলিয়ে কালো সালোয়ার, অথচ ওড়না লালচে মেরুন রঙের! ওড়নায় হয়তো ব্যবহার করা হয়েছে সাদা-কালো লেস বা অন্য কোনো নকশা। আবার দেখা গেলো কেউ গাঢ় রঙের পোশাকের সাথে পরলো হালকা রঙের ওড়না। যেমন ম্যাজেন্টা পোশাকের সাথে হালকা নীল রঙের ওড়না। মোটকথা হাল ফ্যাশনের যুগে বদলে গেছে পুরোনো রীতি-নীতি! অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ওড়নার ফ্যাশনেও এসেছে রঙের জোয়ার।

একটা সময় ছিল যখন ওড়না ব্যবহৃত হতো শুধুমাত্র সালোয়ার-কামিজের অনুষঙ্গ হিসেবে। কিন্তু বর্তমানে সালোয়ার-কামিজের সাথে তো বটেই পাশাপাশি ওড়না পরা হয় ফতুয়া, টপস, পাঞ্জাবী, শার্ট এমনকি টি-শার্টের সাথেও। মোটকথা ওড়না ব্যবহারের সেই সীমাবদ্ধতাটা আর নেই। তবে পোশাক অনুযায়ী ওড়নার ধরন এবং আকারে রয়েছে পার্থক্য। যেমন সালোয়ার-কামিজ বা পাঞ্জাবীর সাথে বড় এবং চওড়া ভালো দেখালেও ফতুয়া, টপস, শার্ট ইত্যাদি পোশাকের সাথে ছোট ও চিকন ওড়না বা স্কার্ফই বেশি মানানসই। এখন ভিন্ন ধরনের ছোট ওড়না পাওয়া যায়। যেমন সুতি, শিফন, সিল্ক, টিস্যু, চুন্দ্রি, বাটিক, সার্টিন, হাতের কাজের, হ্যান্ড পেইন্ট, স্প্রে ইত্যাদি। পোশাক যেটাই পরুন না কেন ওড়না তাতে যোগ করে পরিপূর্ণতা ও মার্জিত মাত্রা।
পোশাকের সাথে মিলিয়ে ওড়না কিনতে হয়- হাল ফ্যাশনে বদলে গেছে এ ধারণাটাও! বরং এখন অনেকেই ওড়নার সাথে মিলিয়েই তৈরি করেন সালোয়ার-কামিজ। জাঁকজমকপূর্ণ ও ভারী কাজের ওড়নাকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইন করা হচ্ছে সালোয়ার-কামিজ অনেক ক্ষেত্রেই। ওড়নার কাপড় কেমন তার ওপর নির্ভর করে বেছে নিন সালোয়ার-কামিজের কাপড়। ধুপিয়ান, অ্যান্ডি কটন, মসলিন, শিফনের ওড়নার সাথে বলাকা, সিল্ক বা মসলিনের কামিজই ভালো দেখাবে। আবার সুতি ও শিফন ওড়নার সাথে পরতে পারেন সুতির সালোয়ার-কামিজ। কারচুপি, হাতের কাজের বা এমব্রয়ডারির ভারী ওড়নাকে প্রাধান্য দিয়ে সাধাসিধে সালোয়ার-কামিজ পরলে স্মার্ট দেখায় যেকোনো মেয়েকে, তাই এ স্টাইলটিও বেছে নিতে পারেন। টাইডাই, বাটিক, চুন্দ্রি এসব ওড়নার ক্ষেত্রে একটা সুবিধা রয়েছে যে এগুলো কামিজ বা সালোয়ারের মিলিয়ে বা না মিলিয়ে দুভাবেই পরা যায়। স্প্রে বা হ্যান্ড পেইন্টের ওড়নার সাথে পরতে পারেন একরঙা সালোয়ার-কামিজ। পোশাকে ওড়নাকে প্রাধান্য দিতে চাইলে সালোয়ার-কামিজ পরুন একেবারেই হালকা। বর্তমানে কামিজের প্রিন্ট থেকে একটি রং বেছে নিয়ে একরঙা সালোয়ার ও ওড়নার পরার ট্রেন্ড চলছে। আবার মাল্টিকালারের প্রিন্টের কামিজ থেকে দুটি রং বেছে নিয়ে শেডের ওড়নাও ব্যবহার করছেন মেয়েরা। এমনকি কামিজ থেকে দুটি রং বেছে নিয়ে একটি সালোয়ারের রং এবং অন্যটি ওড়নার রং হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। এক্ষেত্রে সালোয়ার হচ্ছে গাঢ় রঙের এবং তুলনামূলক হালকা রঙটি হচ্ছে ওড়নার। এতে বাড়তি সৌন্দর্য হিসেবে বসানো হচ্ছে লেইস বা কামিজের কাপড়ের বর্ডার। পোশাকে পূর্ণতা দিতে যেমন ওড়না ব্যবহারে রুচিশীল হতে হয়, তেমনি ওড়না নির্বাচনের ক্ষেত্রেও হওয়া উচিত কৌশলী। ওড়না নির্বাচনের সময় এই বিষয়গুলো মনে রাখুন -
  • যাঁদের শারীরিক গড়ন মোটা ধাঁচের তাঁরা বড় ও চওড়া ওড়না ব্যবহার করুন। ওড়না ভাঁজ না করে মেলে পরুন। এতে মোটাভাব অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়। পাতলা ফিনফিনে কাপড়ের ওড়না এড়িয়ে চলুন। ফোলা ফোলা কাপড়ের ওড়না যেমন টিস্যু ওড়না পরবেন না। এতে আরো মোটা দেখাবে।
  • এমব্রয়ডারি বা কাজের ওড়না হলে ফিনিশিং দেখে কিনুন। ফিনিশিং ভালো না হলে বা সুতা বেরিয়ে থাকলে এটা-সেটার সাথে ওড়না আটকে যাবে এবং ওড়না দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
  • টাইডাই বা বাটিকের ক্ষেত্রে মাল্টিকালারের ওড়না কিনুন, অনেকগুলো জামার সাথে একই ওড়না ব্যবহার করতে পারবেন।
  • খুব পছন্দ হলেও এমন কোনো ওড়না নির্বাচন করবেন না, যেটা আপনি সামলাতে হিমসিম খাবেন।
  • ওড়না চট করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে এমন রঙের ওড়না বাছুন যা আপনার বয়স ও ত্বকের রঙের সাথে মানানসই। মোটকথা আপনাকে মানায় এমন রঙের ওড়নাকেই প্রাধান্য দিন।
কোথায় পাবেন : ফ্যাশন হাউজগুলোসহ যেকোনো মার্কেটে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দসই ওড়না। এছাড়া সপুরা সিল্ক, সোর্স, আড়ং, আজিজ সুপার মার্কেটেও রয়েছে ওড়নার বিশাল সংগ্রহ। দামদর : সুতির ওড়না পাবেন ১৫০-৪৫০ টাকা, খাদি ১৫০-৪০০ টাকা, মসলিন ৪৫০-১২০০ টাকা, সিল্ক ৪৫০-১৫০০ টাকা, শিফন ১৮০-২৫০ টাকা, চিনন ৪৫০-৬৫০ টাকা, ক্রেপজর্জেট ৩৫০-৪৫০ টাকা, বাটিক ৩৫০-৬৫০ টাকা, টাইডাই ১৫০-৫৫০ টাকা, স্প্রে ৪৫০-১২০০ টাকা, হ্যান্ড পেইন্ট ৬৫০-১৫০০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের ছোট ওড়না বা স্কার্ফগুলো পেয়ে যাবেন ১৮০-৬৫০ টাকার মধ্যে।