ছবি সংগৃহীত

ঢাকার বুকেই মিলবে কল থেকে উৎপন্ন খাঁটি সরিষার তেল

তানজিল রিমন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৪, ০৩:২৮
আপডেট: ০৯ মে ২০১৪, ০৩:২৮

(প্রিয়.কম) এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়ে আসতেই তাজা সরিষা ভাঙার ঝাঁঝ ভেসে এলো নাকে। ইট-পাথরের এই শহরে সরিষার ভাঙার গন্ধ তো সহজে পাওয়ার কথা নয়। এই ঝাঁঝ বা গন্ধটা অতি পরিচিত। তবে তা অবশ্যই আমার প্রিয় গাঁয়ে। বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামেই সরিষার ভাঙার কল-এ বা সরিষা তেল উৎপাদনের সময় এই ঝাঁঝটি পাওয়া যায়। ঢাকায় এমন ঝাঁঝ ভেসে আসাটা একটু রহস্যময় বলা যায়। কিন্তু সেই রহস্যের জন্য বেশি ঘাটাঘাটি করতে হলো না। একদম মোড়ে আসতেই সরিষা তেলের ঝাঁঝ যেন ঘিরে ধরলো। ২৩৫/৩ এলিফ্যান্ট রোডে সরিষা তেল উৎপাদনের সে এক এলাহী কাণ্ড! কলের মাধ্যমে সরিষা ভাঙিয়ে এখানে তেল উৎপাদন করা হয়। এখানে উৎপাদনকৃত ভোজ্যতেল খাঁটি সরিষার তেল বলে খ্যাতি পেয়েছে ইতোমধ্যে। সবসময় ভিড়ভাট্টা লেগেই থাকে। ভোজ্যতেল কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে এই তেলের কলের খোঁজ পাইছি। সামনেই তো তৈরি হচ্ছে। যতদূর জানি কলের তেলে কোনো ভেজাল নাই। তাই নিয়মিত এখান থেকে সরিষার তেল কিনি।’

বাজারে পাওয়া যায় বোতলে মোড়কজাতকরণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তেল। সেই তেল থাকতে খোলা তেল কেন কিনছেন এমন প্রশ্নে তেল কিনতে আসা সামেনা বেগম বলেন, ‘কলের তেল খাঁটি হয় বলে শুনেছি। তাই তেল কিনতে আসি।’ শুধু সরিষা থেকে উৎপন্ন ভোজ্য তেলই না, এখানে নারিকেলের তেলও উৎপাদন করা হয় বলে জানা গেল। শুধু আশপাশ থেকে নয়, নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই এখানে ভোজ্য তেল কিনতে নিয়মিত আসেন। কল থেকে উৎপন্ন এই ভোজ্য তেল শহরে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। জানা গেছে, ভোজ্য তেলের কলটি আবেদা নূর ফাউন্ডেশনের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামের এই ফাউন্ডেশন কর্তৃক বেশ কিছু স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজ পরিচালনা করা হয়। এই কল থেকে উৎপন্ন তেল বিক্রি করে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এতিম ও দুঃস্থদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় খরচ করা হয়। এখানে বিক্রি হওয়া প্রতি লিটার সরিষা থেকে উৎপন্ন ভোজ্য তেলের দাম ২০০টাকা। আর নারিকেল থেকে উৎপন্ন তেলের দাম ৩০০টাকা। সরিষা ভাঙানোর কল থেকে উপজাত খৈল-ও বিক্রি হয়। গবাদি পশুর খাবার হিসেবে এসব খৈলও বিক্রি হয় ভালো। প্রতি কেজি খৈলের দাম ৩০ টাকা। এখন চলছে কাঁচা আমের মৌসুম। আমের আচার তৈরিতে খাঁটি সরিষার তেলের কোনো জুড়ি নেই। একদম কল থেকে উৎপাদনকৃত সরিষার তেলের খোঁজ তো পেলেন। তবে অবশ্যই মঙ্গলবার বাদ দিয়ে অন্য যে কোনো দিন যেতে হবে। এদিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে এই ভোজ্য তেলের কল।