ছবি সংগৃহীত

টাঙ্গাইল তাঁতের জাদুতে

nusrat jahan champ
লেখক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৪:৫১
আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৪:৫১

শাড়ি বাঙালি রমণীদের শ্বাশত একটি পোশাক। বারো হাত দৈর্ঘ্যের এই বস্ত্রখণ্ডটি শুধু বাঙালি নয়, তাবত্‍ ভারতীয় উপমহাদেশের নারীদের প্রিয় পোশাক। বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা শাড়ি পরতে দেখা যায় বেশি। শাড়ির চাহিদার কারণে তৈরি হয় নানান ধরনের, নানান মানের ও দামের শাড়ি। শাড়ি তৈরির উপাদানেরও রয়েছে রকমফের! এর মধ্যে সুতি শাড়ি অন্যতম ও সবচেয়ে জনপ্রিয়। সুতি তাঁতের শাড়ির জনপ্রিয়তা রক্ষায় কাজ করে চলছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীর তাঁতীরা। ঠিক কবে এই অঞ্চলে তাঁতশিল্প গড়ে উঠেছিল তা জানা না গেলেও এটা জানা যায় যে এই তাঁতপল্লী হাজার বছরেরও পুরোনো!টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি এতটাই জনপ্রিয় যে, তাঁতের শাড়ি বলতে অনেকে শুধু টাঙ্গাইলের শাড়িই বোঝেন! টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লীর তাঁতীরা অধিকাংশরাই বসাক শ্রেণী। বংশ পরম্পরায় তারা তাঁতের কাজ করেন। সুতি সুতাকে উপজীব্য করে রচনা করে চলেন একের পর এক শাড়ির জন্মগাথা!

টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি করতে অত্যন্ত মিহি সুতা ব্যবহার করা হয় বলে এই শাড়ি এত মোলায়েম ও আরামদায়ক হয়। প্রতিটি শাড়ি তৈরির সময় এর গুণগত মানের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির বুননকৌশল, রং, ডিজাইন ও দৈর্ঘ্য অন্য যেকোনো শাড়ি থেকে আলাদা ধরনের হয়। এসব শাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাড়। জরিসুতা বা রেশমী সুতা ব্যবহার করে ঠাসবুননে তৈরি করা হয় টাঙ্গাইল শাড়ির পাড়। আগেকার দিনে মাধবীলতা, পদ্মপাড়, কুঞ্চলতা, তেরবি, মরবি, লতাপাতা পাড়ের শাড়ি বেশি জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে টাঙ্গাইলের তাঁতীরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও যুগের চাহিদার সংমিশ্রণে শাড়ি তৈরি করছে। নব্বই দশকের প্রথম দিকে টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। এ সময়ে টাঙ্গাইল কটন শাড়ির পাশাপাশি টাঙ্গাইল সফট সিল্ক শাড়ি তৈরি শুরু হয়। ডিজাইন ও উন্নত বুননের কারণে এ শাড়ি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এখন টাঙ্গাইলে কটন ও সফট সিল্কের পাশাপাশি বালুচরি, তসর সিল্ক, বংকাই, হাফসিল্ক, সম্বলপুরী, তনচু কাতান, সিল্ক কাতান, সানন্দা কাতান, ভেলভেট কাতান ইত্যাদি নামে প্রচুর ভালো ডিজাইনসমৃদ্ধ ও গুণগত মানসম্পন্ন শাড়ি তৈরি হচ্ছে।
কোথায় পাবেন টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় পাবেন! প্রায় সব শাড়ির দোকানেই টাঙ্গাইলের শাড়ি পাওয়া যায়। ঢাকার বেইলী রোডে রয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি বিশাল সমাহার। এছাড়া নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নানান বুটিক হাউস থেকে শুরু করে বসুন্ধরা সিটি - সবখানেই পাবেন টাঙ্গাইলের শাড়ি খোঁজ! দামদর টাঙ্গাইল সফট কটন শাড়ির দাম ৩০০-৩৫০০ টাকা, সফট সিল্ক ৮০০-৫০০০ টাকা, বালুচরি ১২০০-২৫০০ টাকা, তসর সিল্ক ১৮০০-৪৫০০ টাকা, সম্বলপুরী ৬০০-৩০০০ টাকা, সিল্ক কাতান ২৫০০-১০০০০ টাকা, তনচু কাতান ১৫০০-৮০০০ টাকা এবং অন্যান্য শাড়িগুলো পাবেন ৫০০-৫০০০ টাকার মধ্যে।