ছবি সংগৃহীত
ছোটবেলায় খুব দুষ্ট ছিলাম : কর্ণিয়া
আপডেট: ১১ মে ২০১৬, ১৭:০৪
ছবি : শামছুল হক রিপন।
(প্রিয়.কম) কর্ণিয়া, মিষ্টি হাসি আর মিষ্টি কণ্ঠ দিয়ে মন ভুলান দর্শক আর শ্রোতাদের। এক বিকেলে দুষ্টুমি ভরা হাসি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রিয়.কম অফিসে। অংশ নেন আড্ডায়। চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকের জন্য।
প্রিয়.কম : কেমন আছেন?
কর্নিয়া: ভালো
প্রিয়.কম : সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কি নিয়ে?
কর্ণিয়া : বেশকিছু টিভি প্রোগ্রাম, লাইভ শো আর নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত আছি। খুব শিগগিরই একটি নতুন মিউজিক ভিডিও বাজারে আনব।
প্রিয়.কম: নতুন কোনো অ্যালবাম কি আসছে?
কর্ণিয়া : না এখনো সেরকম কোনোকিছু ঠিক করিনি। দেখা যাক।
প্রিয়.কম : বর্তমানে সবাই মিউজিক ভিডিওর দিকেই ছুটছে, আগের মতো আর অ্যালবাম বের হচ্ছে না। কারণ কি?
কর্ণিয়া: আসলে অ্যালবামের থেকে মিউজিক ভিডিও আর অনলাইন রেসপন্সটাই বেশি ভাল। এ কারণে সবাই সেদিকেই ছুটছে।
প্রিয়.কম : তবে ইদানিং কিন্তু নকল মিউজিক ভিডিও, নকল গানও হচ্ছে...
কর্ণিয়া : আমি নিজেই তো নকল গানের শিকার হয়েছি। আমার ‘হিরো’ গানটা যে নকল হবে তা কল্পনাও করিনি।
প্রিয়.কম : তাহলে মিউজিশিয়ান আর ডিরেক্টরকে কিছু বলেননি কেন?
কর্ণিয়া : দেখুন এসব নিয়ে আমি আসলে বলতে চাই না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে বলেও লাভ হবে না।
এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। চলুন জানা যাক অন্য এক কর্ণিয়াকে...
দুষ্টুমি কার না ভাল লাগে। দুষ্টুমি করার গল্প বলার মতো মজা বোধ হয় আর হয় না, কণ্ঠশিল্পী কর্ণিয়াও এর বাইরে নন। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে অবাধ দুষ্টুমি আর উড়াউড়ির দিনগুলো ফুরিয়ে না যেতেই কণ্ঠশিল্পীর খাতায় নাম লেখিয়েছেন কর্ণিয়া। এখন চাইলেই আর আগের মতো দুষ্টুমি করতে পারেন না। তবে এই আফসোসকে ছাড়িয়ে প্রাপ্তির আনন্দটাই কি বেশি নয়? কর্ণিয়ার দুষ্টুমিতে ভরা হাসি যেন তারই জবাব দিল।
পাওয়ার ভয়েস প্রতিযোগিতা দিয়ে ওঠে আসেন জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া। এরপর স্টেজ, অডিও প্লেব্যাক আর টিভি লাইভ প্রোগ্রাম দিয়ে সরব রয়েছেন এই মিষ্টি মেয়ে। শুধু তাই নয়, বর্তমানের ব্যস্ততম কয়েকজন কণ্ঠশিল্পীর একজন তিনি।
কর্ণিয়ার জন্ম মাগুরায় হলেও বেড়ে ওঠেছেন ঢাকায়। পড়ালেখাও ঢাকাতে। ২০০০ সালে মারা যান বাবা। এরপর মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলছেন তিনি। এখনো মা-ই তার একমাত্র ভরসা।
ছোটবেলাতেই গানে হাতে খড়ি। মায়ের অনুপ্রেরণাতেই শুরু করেন গান। স্কুল কলেজের কনসার্টে কর্ণিয়ার গান শুনে মুগ্ধ হয়নি এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। তবে গায়ক হবেন এমন স্বপ্ন কিন্তু দেখেননি কর্ণিয়া। কর্ণিয়া বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন আমি কখনোই দেখিনি। আমাকে কণ্ঠশিল্পী বানানোর স্বপ্ন দেখতেন আম্মু। আম্মুই আমাকে সেভাবে গড়ে তুলেছেন।’
তাহলে কর্ণিয়ার স্বপ্ন কী ছিল? স্বপ্ন ছিল পাইলট হবেন। নীল আকাশে ভেসে বেড়াবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি কর্ণিয়ার। কারণটা তো আগেই বলে দিয়েছেন। এ ছাড়াও নাকি আরও কারণ ছিল! এলোমেলো কর্ণিয়ার কি অতটা নিয়মানুবর্তি হতে আছে? নেই। পারবেন না নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হতে। উড়ো উড়ো মনে যার দুষ্টুমি খেলা করে সে কী করে নিয়মের মধ্যে আসবে। স্বীকারও করে নিলেন, তিনি দুষ্ট। বললেন, ‘আমিতো বরাবরই দুষ্ট ছিলাম। সেই ছোটবেলা থেকেই। ফ্রেন্ড সার্কেলের সঙ্গে প্রচুর দুষ্টুমি করতাম। সেসব দুষ্টুমির কথা বলে শেষ করা যাবে না।’
এই যার অবস্থা সে না জানি কতবার প্রেমে পড়েছে! কিন্তু মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন উল্টো। বললেন, ‘না, এসবের মধ্যে আমি নেই। আর এসব নিয়ে কিছু বলতেও চাই না।’
নিজের প্রেমে পড়া নিয়ে মুখ না খুললেও জানাতে ভুল করলেন না ছেলেরা কিন্তু পই পই করে ঘুরতো কর্ণিয়ার পেছনে। কতশত যে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।
আমাদের কথা শেষ হয়নি। আরও অনেক কথা বাকি থাকলেও কর্ণিয়ার হাতে সময় নেই। অগত্যা ছেড়ে দিতে হলো কর্ণিয়াকে । তবে একটা শর্তে, প্রিয়কথার পরবর্তী কোনো আয়োজনে কর্ণিয়া বলবেন নিজের বিস্তারিত গল্প।