ছবি সংগৃহীত
অষ্টালংকারে সালংকারা !
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৩, ১২:০১
অলংকার একটি ছোট পরিচিত নাম। অমরসিংহ রচিত সংস্কৃত অভিধান 'অলম' শব্দটি পর্যাপ্ত শক্তি, বরণ-বাচকের সঙ্গে ভূষণ অর্থ বহন করে। ভূষণ দেহের সৌন্দর্য ও নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। যে জিনিসটি ব্যবহার করে এই সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়, তাই হলো অলংকার। অলংকার নারীর সৌন্দর্যকে পূর্ণতা দেয়। একজন নারী যত মানানসই পোশাকই পরুন না কেন, অলংকার বিহনে কখনই অপরূপা হয়ে উঠতে পারেন না। প্রাচীনযুগের জনৈক ঋষি বলেন, নারী কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু যখনই তাকে অলংকার দেয়া হলো তখনই সে বললো 'অলম', যার অর্থ 'আর নয়'! সেখান থেকেই অলংকার শব্দটির আবির্ভাব হয়েছে বলে মনে করা হয়। নারীসমাজে নানা ধরনের অলংকার প্রচলিত রয়েছে। অলংকারপ্রীতি নেই এমন নারী খুঁজে পাওয়া যাবে না। নারীরা তাদের শরীরের আটটি অঙ্গে অলংকার পরে থাকেন। এই আট অঙ্গের অলংকারগুলোকে একত্রে অষ্টালংকার বলা হয়। আর যে নারী অষ্টালংকার পরিধান করে তাকে বলা হয় সালংকারা। আসুন জানি নারীদের অষ্টালংকার সম্পর্কে - মাথার অলংকার : চিরুনি, খোঁপার কাঁটা, শিকল, সিঁথিপাটি, শংখচূড়, রত্নচূড়, টিকলি, চন্দ্রচূড়, খুজাকাটি, টায়রা, চৌবন্দি, শারবন্দি, চন্দ্রফুল, শীষফুল, মৌলি, জালি, খোঁপাহার, মিনি মুকুট, কলগা, কলগি, কীরিট, টোপর, তাজ, মোর, শিরমণি, শেখর, ঝাপটা, সারপাঞ্চ। কানের অলংকার : কানফুল, কানবালি, ইয়াররিং, কানপাশা, ফুল, কনকাবালি, মকরবালি, ববিরিং, চেনটানা, ঝুমকা, কানমাকড়ি, হীরামঙ্গল, কানমঞ্জুরী, টপ, দুল, কড়ি, বালি, সাইরবালি, গুজি, ত্রিরাজিক, উরচৌলা, দ্বিবাজিক, কর্ণিকা, কর্ণপুর, কর্ণবেষ্টন, কর্ণপালি, কর্ণদর্পণ, কর্ণকুন্তল, কর্ণমালা, চৌদালি, টেড়ি ঝুমকা, পাশা, বাউটি, বারবাউরি, মকরকুণ্ডল। গলার অলংকার : চিক, হাঁসুলি, ধানতাবিজ, চন্দ্রহার, পাঁচনড়ি, সাতনড়ি, চিকতেলার, ছড়াপাড়ি, ছিলদানা, সাতেশ্বরী, শংখমালা, রুদ্রাক্ষের মালা, মাদুলি, গজমতি, গজহার, মোহনমালা, চম্পাকলি, গ্রীবাপত্র, ভ্রামর, মারিকা, চারশির, সীতাহার, থুকথুকি, নেকলেস, লবণিকা, মঙ্গলসূত্র, কড়িমালা, মুদ্রামালা, মুদ্রাহার, অর্ধহার, ইন্দ্রচ্ছদ, একনড়ি, একাবলি, কন্টি, গোটহার, গোপহার, গোস্তন, গুঞ্জার, গুঞ্জমালা, গৈবয়ক, চন্দ্রহার, চারনড়ি, চেন, চেনহার, পদক, পাটিহার, পঞ্চলহরী, পুঁতিমালা, প্রাণচ্চ, প্রালম্বিকা, প্রনডেন্ট, ফুলোহার, চিম্বকি, বিছেহার, মধ্যমণি, মালা, মতিহার, দমাহার, দশাহার, রক্সিমালা, লকেট, শেলি, স্রক, হেঁসেহার ইত্যাদি। হাতের অলংকার : অনঙ্গ, অঙ্গদ, আর্মলেট, কেয়ুর, কঙ্কন, কাঁকন, খাড়, চূড়, চুড়ি, টাড়, তাবিজ, তাগা, তার, বলয়, বাউটি, বালা, বাহুবন্দ, বাজু, বাজুবন্দ, ব্রেসলেট, শঙ্খবাজু, কাটাবাজু, বৌলবাজু, জসাম, মাদুলি, শাঁখা, পঁইছা, মানতাসা, রতনচূড়, প্রতিশর, মোয়া, নোয়া, রাখি, কেদুর, বিভা, অনন্ত, বালা, রুলি, গাড়া, তারাবয়লা ইত্যাদি। আঙুলের অলংকার : আংটি, রিং, আঙ্গুরীয়, হাতচেন ইত্যাদি। নাকের অলংকার : নাকছাবি, নাকফুল, নথ, নোলক, কেশর, নাকমাছি, বোলাক, চানবোলাক, চমকবালি, বিজলি, নাকবালি, ভাঙ্গি, নাকসোনা, টানানথ ইত্যাদি। কোমরের অলংকার : কটিবন্ধ, কটিত্র, কোমরবন্ধ, কিঞ্চি, কিঞ্চিনি, গোট, ঘুনসি, মেখলা, বিছা, টোরা, বসনা, সারমন, সপ্তকি, চন্দ্রহার, সূর্যহার, কোমরবালি, কাঞ্চি, মাঞ্জাহার, মাঞ্জাহার, মাঞ্জাচূড়, শংখবিছা, কোমরদানি ইত্যাদি। পায়ের অলংকার : খাড়ু, মল, ছড়ামল, পাতামল, পায়জোড়, নুপূর, পাশুলি, ঘুঙুর, কড়া, বাঁকমল, আঙুটি, চুটকি, চাহারা, পান্দচূড়, পাদপদ্ম, মুদিকা, আঙ্গোট, কিঞ্চিনি, গুববাঁধ, গোড়গলা, গুজারি, গুজরিপঞ্চম, সাগর, টুটকি, তোড়া, পাদঙ্গদ, পাষক, পাদকটক, গাড়াকল, মঞ্জির, শিঞ্জিনি ইত্যাদি।