মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু, মাসে গড়ে নিহত ১৫০
ঢাকার পোস্তগোলার একটি ভাঙারির দোকানে কাজ করতেন আরিফুর রহমান ও মো. ফালু। মালিকের অনুরোধে পুরোনো ভাঙারি মালামাল দেখতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেলে টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা হন দুজন।
কে জানত, এটিই তাদের শেষ যাত্রা হবে! পথে একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফালু। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আরিফুর।
একই দিনে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের কাশিয়ারবাড়ী এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী আশিফ হোসেন।
এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদলা এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান শাহাদাত হোসেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার তাকে চাপা দেয়। কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মারা যান আরেক মোটরসাইকেল আরোহী রোকন।
এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকালের হিসার ছাড়াও প্রায় প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মোটরসাইকেলচালক ও তাদের সহযাত্রীরা। একইসঙ্গে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ১৩ হাজার। দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০২৬ সালের আগস্টে তা ৫০ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ১৯৬, ফেব্রুয়ারিতে ১৭৪, মার্চে ২০৪, এপ্রিলে ১১৩, মে মাসে ১১৩, জুনে ১৩৪, জুলাইয়ে ১৩৮, আগস্টে ১৭৬ এবং সেপ্টেম্বরে ১৩৯ জন মারা গেছেন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।