যাদের শ্রমে সমৃদ্ধি, তাদের জীবন কতটা নিরাপদ?

বিডি নিউজ ২৪ মুশফিকা জাহান প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২০:২০

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প লাখো মানুষের জীবিকার ভিত্তি এবং দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। অথচ এই শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই আলোচনার বড় অংশ আটকে যায় উৎপাদন বন্ধ, সড়কে যানজট আর সংঘর্ষের খবরে। শ্রমিকেরা কেন বারবার রাস্তায় নামছেন, তাদের আয় দিয়ে জীবনযাপনের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটে কি না এবং সংকট এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কী করতে পারত, সেই প্রশ্নগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।


১ নভেম্বর ঢাকার মিরপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা মাসে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহারের খবর এসেছে। আগের দিন মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে বহু কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল। একই দিনে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বন্ধ বা ছুটি ঘোষণার কারখানার সংখ্যা ভিন্নভাবে এসেছে, তবে শিল্পাঞ্চলজুড়ে অস্থিরতার ব্যাপ্তি স্পষ্ট।


মজুরির অঙ্কের বাইরে জীবনের হিসাব


২০২৩ সালের নভেম্বরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি তুলছেন। দাবির অঙ্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তার ভিত্তি হওয়া উচিত শ্রমিকের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়।


১ নভেম্বরের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ১৮ বছর ধরে পোশাকশিল্পে কাজ করা এক শ্রমিকের কথা পড়লাম। অতিরিক্ত কাজসহ তার মাসিক আয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা; এর মধ্যে আট হাজার টাকা চলে যায় বাসাভাড়ায়। খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসা ও সন্তানের পড়াশোনার জন্য অবশিষ্ট অর্থ কতটা যথেষ্ট, তা সহজেই বোঝা যায়।


ন্যূনতম মজুরি কাগজে লেখা একটি অঙ্কমাত্র নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাবারের মান, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য, সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ। মজুরি নির্ধারণে তাই শুধু উৎপাদন ব্যয় বা মালিকের সক্ষমতা নয়, বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, যাতায়াত ও শিক্ষার ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। শ্রমিকের আয় দিয়ে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটে কি না, সেটি আলোচনার অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।


মানসিক সুস্থতা কাজের পরিবেশেরও প্রশ্ন


বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: মানসিক সুস্থতা শুধু ব্যক্তির মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; তিনি যে পরিবেশে কাজ করেন ও জীবনযাপন করেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, চাকরি হারানোর ভয়, কর্মক্ষেত্রে অসম্মান কিংবা অভিযোগ জানানোর নিরাপদ সুযোগ না থাকা মানুষের মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে। মাস শেষে সংসার চলবে কি না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাওয়া যাবে কি না, এমন দুশ্চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পরিবার, ঘুম, মনোযোগ ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়ে।


২০২৬ সালে ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাভারের দুটি কারখানার ২৮১ জন পোশাকশ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের ৫৮.৭ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ, ৭৩.৬ শতাংশের মধ্যে উদ্বেগের লক্ষণ এবং ১৯.৯ শতাংশের মধ্যে মানসিক চাপের লক্ষণ পাওয়া যায়। নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি দুটি কারখানার সীমিত নমুনার ওপর পরিচালিত; তাই ফলাফলকে দেশের সব পোশাকশ্রমিকের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। তবু কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতার প্রশ্নটি গুরুত্ব দিয়ে দেখার যথেষ্ট কারণ এটি দেয়।


এখানে একটি পার্থক্য জরুরি। প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা শ্রমিকদের কাজে লাগতে পারে। কিন্তু কম মজুরি, অনিরাপদ পরিবেশ, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও চাকরির অনিশ্চয়তা অক্ষুণ্ন রেখে শুধু চাপ সামলানোর কৌশল শেখালে সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিত থেকে যায়। মানুষকে প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা দরকার, কিন্তু প্রতিকূলতাকে স্থায়ী রেখে সেই দায়িত্ব শুধু শ্রমিকের ওপর চাপানো যায় না।


নারী শ্রমিকের কাজ কারখানার গেটেই শেষ হয় না


পোশাকশিল্পে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করেন। তাদের অনেকের আয় পরিবারের খাদ্য, সন্তানের শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব শেষে অনেক নারীকে ঘরের কাজ ও সন্তানের যত্নও সামলাতে হয়। এই বাড়তি দায়িত্বের জন্য আলাদা পারিশ্রমিক নেই, অথচ সময় ও শক্তি দুটোই ব্যয় হয়। ফলে বিশ্রাম, ব্যক্তিগত সময় কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজন অনেক সময় পিছিয়ে যায়।


মজুরি ও নিরাপত্তার আলোচনায় তাই নারীদের বাস্তবতা আলাদা করে বিবেচনা করা দরকার। শিশুযত্নের ব্যবস্থা, নিরাপদ যাতায়াত, হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযোগপ্রক্রিয়া এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ বাড়তি সুবিধা নয়; এগুলো দায়িত্বশীল কর্মপরিবেশের অংশ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও