বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে আইনগত প্রশ্ন ওঠে; কিন্তু যে ব্যবস্থার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটল, সেই ব্যবস্থার জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত-সে প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়। একটি সড়কের নকশা ত্রুটিপূর্ণ হলে, বিপজ্জনক স্থান দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকলে, গণপরিবহণের চালককে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় গাড়ি চালাতে হলে কিংবা পথচারীর নিরাপদ পারাপারের সুযোগ না থাকলে তার দায় নির্ধারণ হবে কীভাবে? বিদ্যমান আইন কি এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে?
এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য পৃথক ও সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের যৌক্তিকতা নিহিত। নতুন আইন প্রয়োজন কি না, সেই সিদ্ধান্ত কেবল বিদ্যমান আইনের নাম বা সংখ্যা দেখে নেওয়া যাবে না। দেখতে হবে, নাগরিকের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব কতটা সুস্পষ্ট, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা কতটা কার্যকর এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির ব্যবস্থা কতটা বাস্তব।
পরিসংখ্যান যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে : রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৭ হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৬৭১ জন ছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার এবং ১ হাজার ৫৬৪ জন ছিলেন পথচারী। অর্থাৎ সংস্থাটির হিসাবে, মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে এবং ২১ শতাংশের বেশি পথচারী মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকায় একই বছরে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন।