আসন্ন শারদ উৎসব বনাম দুর্গাপূজা
দুর্গাপূজাকে আমরা শারদীয় উৎসব নামেও ডেকে থাকি। শরৎকাল বাংলাদেশের এক অপূর্ব ঋতু। যদিও কাগজ-কলমে ছয়-ছয়টি ঋতু, কিন্তু বাস্তবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত—এরাই টিকে আছে। তবু আরেকটি ঋতু নীরবে এসে দাঁড়ায়। মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে দেখে এই পোড়ার সমাজে, ভঙ্গুর রাষ্ট্রে সর্বদা ক্রন্দনরত দেশে শিউলি ফোটে। ভোরবেলার আকাশ নীল-নীলাকার হয়ে মাথার ওপর বিরাজ করে। মাঝে মাঝে সাদা মেঘের ভেলা আর মন আনমনা করা মাটির গন্ধে সবাই জানে শরৎ এসেছে। সেই শরৎ, যাকে নিয়ে কবি লিখেছেন:
ভালোই হয়েছে প্রভাত এসেছে মেঘের সিংহবাহনে...
বলছিলাম দুর্গাপূজার কথা। বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর এই উৎসব কেবল পূজাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কালক্রমে সাহিত্য-শিল্পের নানা শাখায় পূজার প্রভাব পড়েছে। সে কারণে একসময় দুর্গা উৎসব বা পূজাকে আমরা শারদ উৎসব বলে মানতে চেয়েছি। একটা কথা বলে রাখা ভালো, এখন সময় যতটা উৎসবের, ততটাই বিষাদের। দুর্গা দেবী, তিনি বাঙালি হিন্দু ও দুর্গা বিশ্বাসী যেকোনো মানুষের কাছেই ‘মা’। মা কী করেন? আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে পৃথিবীর একটা সেরা ফটোগ্রাফ বা ছবির কথা—মা ক্যাঙ্গারু হিংস্র বাঘ বা সিংহকে তার শরীর খুবলে খেতে দিচ্ছে এবং বাচ্চাটাকে আগলে রেখেছে পরম মমতায়। এটাই মায়ের স্নেহ। ঢাল, তলোয়ার, কামান, বন্দুকের পুরুষ যা পারে না, নারী তা-ই পারে। আর মা হলে তো কথাই নেই।