ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

প্রথম আলো ডেভিড বার্গম্যান প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ৩৩ বছরের সম্পর্ক নিয়ে দলটির সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। দলের একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, দলের নেতৃত্ব ‘বেশ কয়েকটি নীতিগত ভুল ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং এখন দলটি ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়েছে।


সম্ভবত আবদুর রাজ্জাক এ মূল্যায়ন করেছিলেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অনেকটাই অপ্রত্যাশিত গণ–অভ্যুত্থানের আগে। ওই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়।


দুঃখজনকভাবে, রাজ্জাক ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে মারা যান। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অভূতপূর্ব সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি। ওই নির্বাচনে দলটি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে। দলের ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য। ফলে অন্তত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের জন্য অস্তিত্বের কোনো সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক যে ‘ভুলগুলো’র কথা বলেছেন, সেগুলো কী?


এর কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিষয়। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন না দেওয়া; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ওই যুদ্ধে নিজেদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া।


প্রশ্ন হলো, দলের বর্তমান রাজনৈতিক সাফল্যের পরও এই ‘ভুলগুলো’ কি আগামী দিনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য দুর্বলতার জায়গা হয়ে থাকবে? নাকি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা জামায়াতকে তার অতীতের এসব প্রশ্নের রাজনৈতিক অভিঘাত থেকে কার্যত মুক্ত করে দিয়েছে?


প্রথম ভুলটির বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াত ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পরপরই বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’


১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো নতুন সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন। আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, সে সময় জামায়াত প্রথম দিকে ‘জনগণের পক্ষে’ ছিল।


তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে ‘সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের’ জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২৬ মার্চ সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর ‘জামায়াত তার অবস্থান পুরোপুরি পাল্টে ফেলে এবং সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে’।


রাজ্জাকের মতে, জামায়াতের এ অবস্থান তাদেরই আগের একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শুরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কিংবা সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করলে ‘জামায়াত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করবে না’।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই বাহিনী ‘বাঙালি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছিল’। তাঁর মতে, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে’ জামায়াতের ব্যর্থতা ছিল ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও