মৃত্যুর দুদিন আগে ছবি পাঠিয়ে মাইদা বলেছিলেন, ‘আপা, ও আমাকে আজও মারছে’
চামড়ার বেল্ট দিয়ে স্বামী পেটাচ্ছেন। পাশের কক্ষে সন্তানদের কান্নাকাটি। স্বামীর অভিযোগ অস্বীকার করেও মারের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছিলেন না। গত সপ্তাহে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম মুক্তা ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর পর এই ভিডিওটি সম্পর্কে জানা যায়।
এই ঘটনার আলোচনা শেষ না হতেই নির্যাতনে আল মাইদা আক্তার (২০) নামে আরেক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর মাইদাকে মৃত ঘোষণা করা হলে পালিয়ে যান স্বামী মো. সিয়াম আল মুরসালিন আকাশ (৩০)। স্থানীয় লোকজন পরে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৃত্যুর দুদিন আগে মারধরে জখম হওয়ার ছবি খালাতো বোনের কাছে পাঠিয়েছিলেন মাইদা। গালে ব্যান্ডেজ, চোখ ফোলা। মাইদা বলেছিলেন, ‘আপা, ও আমাকে আজও মারছে।’
মুক্তা ইসলামকে নির্যাতনের একটি ভিডিও তাঁর ভাই তানভীর রহমানের মুঠোফোনে পাঠিয়েছিলেন স্বামী সোহেল শিকদার। সঙ্গে লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে পেটানো হচ্ছে। পাশের কক্ষে সন্তানদের কান্না শুনে মুক্তা স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ মারতে মারতে সোহেল বলছিলেন, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।’ ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর মুক্তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কম সময়ের ব্যবধানে দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার দুটি থেকে জানা যায়, দুই নারীই স্বামীর কাছে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতন সহ্য করে তাঁরা সংসার করতেন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হলো তাঁদের পরিণতি। পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাকে অপরাধ না ভেবে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার কারণে নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন নারী অধিকারকর্মীরা।