দলনিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন কেন জরুরি
একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করা, যার প্রধান পূর্বশর্ত হলো জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠা। জনগণের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে—শুধু জাতীয় সংসদ নয়, সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নির্বাচনের ফলে।
এ লক্ষ্যে আমাদের সংবিধানে একদিকে যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তেমনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা নির্বাচনের বিধান। ইতিমধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস আমরা পেয়ে আসছি। নির্বাচন কমিশনও এ লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতির কথা বারবার জানান দিচ্ছে। শোনা যায়, এ বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বস্তরের স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। তবে সরকার ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তারা ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এসব নিয়োগ বিএনপির ৩১ দফার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, ৩১ দফায় শুধু মৃত্যুর কারণে কিংবা আদালতের নির্দেশে কোনো ব্যক্তি অপসারিত হলেই প্রশাসক নিয়োগ করার অঙ্গীকার রয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ আমাদের উচ্চ আদালতের রায়েরও পরিপন্থী। উপজেলা পরিষদ বিলুপ্তির মামলায় বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯২ সালে বিখ্যাত কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছয় মাসের মধ্যে সব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেন।
তবে প্রশাসক নিয়োগের ফলে সরকারের দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগ্রহে ভাটা পড়াই স্বাভাবিক এবং এ লক্ষ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের, এমনকি স্থানীয় উন্নয়নে সংবিধানবহির্ভূতভাবে ক্রমাগতভাবে অধিকতর ক্ষমতাপ্রাপ্ত (যেমন উপজেলা পরিষদে পরিদর্শনকক্ষ, স্থানীয় উন্নয়নে তদারকির এখতিয়ার, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ইত্যাদি) সংসদ সদস্যদের কাছ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে অপ্রকাশ্য বিরোধিতা আসতে পারে।