বেকারত্বের মহামারি : ২১ লাখ আবেদন, ১ হাজার ৪৮৫ পদ

জাগো নিউজ ২৪ চিররঞ্জন সরকার প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭

দেশে এখন নানা রকম সংকট। তবে তরুণদের কাছে সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত কাজের সুযোগ—আয়-উপার্জনের সুযোগ, একটি চাকরি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত হলো সরকারি চাকরি। আর বাংলাদেশে সরকারি চাকরি যেন এখন সোনার হরিণ। একটি পদের পেছনে ছুটছেন হাজার হাজার তরুণ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সেই বাস্তবতাকে একেবারে চোখের সামনে এনে দিয়েছে। ১ হাজার ৪৮৫টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য লড়ছেন প্রায় ১ হাজার ৪৩০ জন। সংখ্যাটি শুধু একটি নিয়োগ পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের শ্রমবাজারের গভীর সংকটের একটি প্রতীক।


সরকারি চাকরির প্রতি মানুষের আগ্রহ নতুন নয়। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যখন সীমিত কয়েকটি পদের জন্য প্রতিযোগিতায় নামেন, তখন প্রশ্ন ওঠে, বাকিরা কোথায় যাবেন? বেসরকারি খাতে কি তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কাজ আছে? বিনিয়োগ কি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে? শিক্ষিত তরুণদের জন্য অর্থনীতির দরজা কি যথেষ্ট খুলছে? সাম্প্রতিক নানা তথ্যের উত্তর খুব আশাব্যঞ্জক নয়।


গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও নীতিগত বিকল্প নিয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিকে ‘কর্মসংস্থান জরুরি অবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান পরে বলেছেন, দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি ‘মহামারি আকার’ ধারণ করেছে। এক বছর পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগে ২১ লাখের বেশি আবেদন সেই সতর্কবার্তাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক তথ্যও এই উদ্বেগের প্রকাশ ঘটিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিকোত্তর বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ডিগ্রিধারী তরুণদের প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ শিক্ষার স্তর যত বাড়ছে, কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা ততটা বাড়ছে না। একটি দেশের তরুণ প্রজন্ম যদি শিক্ষিত হয়েও দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকে, তার প্রভাব শুধু পরিবারের আয়েই পড়ে না; আত্মবিশ্বাস, সামাজিক স্থিতি, ভোগ, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতার ওপরও পড়ে।


সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মে মাসে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের ৫২ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৪৮৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ২ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। পদভেদে আবেদন ফি ছিল ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আবেদন শেষ হওয়ার পর দেখা গেল, প্রার্থীর সংখ্যা ২১ লাখ ২৩ হাজার। এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী সামলানোর অভিজ্ঞতা অধিদপ্তরের নেই। ফলে পরীক্ষা কবে হবে, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি।


বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়। এটি রাষ্ট্রের জন্যও একটি সতর্কসংকেত। ২১ লাখ মানুষকে পরীক্ষার সুযোগ দিতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্র, প্রশ্নপত্র, পরিদর্শক, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের আয়োজন করতে হবে। ব্যয়ও হবে বড়। তাই কীভাবে প্রাথমিক বাছাই হবে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কতজন রাখা হবে এবং কীভাবে দ্রুত নিয়োগ শেষ করা যায়, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চেয়েছে অধিদপ্তর।


এই আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষাগুলোর তুলনায়ও বিস্ময়কর। সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫০টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ২ লাখ ৯০ হাজার জন। ৪৯তম বিসিএসে আবেদন ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার। ৪৭তম, ৪৬তম ও ৪৫তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার, ৩ লাখ ৩৭ হাজার ও ৩ লাখ ৪৬ হাজার। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৮৫টি পদের জন্য ২১ লাখ ২৩ হাজার আবেদন এই ব্যবধানকে স্পষ্ট করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও