বৃদ্ধ মা–বাবাকে সুরক্ষা দেবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন ধারা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রথম আলো প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫

শাহজাহান মৃধা মারা যাওয়ার আগে স্ত্রী হালিমা বেগমের নামে ৬৪ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। হালিমা বেগম থাকতেন বড় ছেলে মাহাবুব আলম মৃধার সঙ্গে।


৮২ বছর বয়সী হালিমা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে মাহাবুব। এর কিছুদিন আগে স্বামীর দেওয়া ৬৪ শতাংশ জমি ছেলের (মাহাবুব) নামে লিখে দিয়েছিলেন হালিমা। তাই ছেলে বের করে দেওয়ার পর স্বামীর দেওয়া সম্পত্তির ওপর কোনো দাবি করতে পারেননি তিনি।


বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এই ঘটনা ২০২২ সালের। সেটা বেশ আলোচনায় এসেছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।


আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের অনেকেই বলছেন, যে সংশোধিত সম্পত্তি হস্তান্তর আইন হয়েছে, সেখানে হালিমার মতো ব্যক্তিদের বৃদ্ধ বয়সে সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। কোনো ব্যক্তি নিজের রক্তসম্পর্কের স্বজন ও স্বামী বা স্ত্রীকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগের সুযোগ থাকবে দাতার।


নারীপক্ষর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক প্রথম আলোকে বলেন, বাবা-মায়ের পেনশনের টাকা নিয়ে যাওয়া, সম্পত্তি লিখে নিয়ে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো অনেক ঘটনা ঘটে থাকে। ফলে এই আইনের সংশোধন ইতিবাচক। সংশোধিত আইনটি বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে সুরক্ষা দেবে। তিনি বলেন, আইনে এ ধরনের নানা ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে একজন ব্যক্তি সম্পত্তি কাকে দেবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁর থাকে।


শিরীন হক আরও বলেন, যাঁরা ধর্মভিত্তিক আইন অনুসরণ করতে চান, তাঁরা সেটা অনুসরণ করবেন। সে ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে কোনো বাধা নেই। দেশে সবার ধর্ম এক নয়। রাষ্ট্রে আইন হয় সবার জন্য। যাঁরা সমতাভিত্তিক অভিন্ন পারিবারিক আইন চান, তাঁদের জন্যও ব্যবস্থা রাখতে হবে।


সংশোধিত আইনে কী কী বলা হয়েছে


জাতীয় সংসদে গত রোববার ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) (সম্পত্তি হস্তান্তর) বিল সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন। সংশোধিত আইনে দুটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে।


বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।


সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২২ ধারায় ‘দান’ বা ‘গিফট’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তাঁর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্বেচ্ছায় এবং কোনো বিনিময় ছাড়াই অন্য কাউকে দিয়ে দিলে সেটি দান।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও