জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন বাস্তবতা যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে

প্রথম আলো মামুন রশীদ প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৩৩

শিল্পায়ন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, নগরায়ণ ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের জ্বালানি চাহিদাও বাড়ছে। ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, এভিয়েশন ফুয়েল ও লুব্রিকেন্টের পাশাপাশি এলপিজি ও এলএনজির ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে জ্বালানি এখন শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহনের বিষয় নয়। এটি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।


বাংলাদেশের জ্বালানিব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হলো আমদানিনির্ভরতা। দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আনতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও আমদানি ব্যয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বেশি দামে জ্বালানি কিনলে পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্প—সব খাতেই উৎপাদন ব্যয় বাড়ে।


আমাদের আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা পরিশোধন সক্ষমতা। রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান সক্ষমতা বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন, যা দেশের মোট চাহিদার তুলনায় বেশ কম। 

ফলে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেলে সেই সুবিধা পুরোপুরি নেওয়ার সুযোগও সীমিত থাকে। ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে নেওয়ার পরিকল্পনা তাই দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বাংলাদেশের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে তেলের দাম, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয় বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র বা পরিশোধনাগারে হামলা হলে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে সংঘাত শেষ হলেও তার অর্থনৈতিক অভিঘাত কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।


বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিটা আরও বেশি। কারণ, আমাদের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এলএনজির ক্ষেত্রে কাতারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে। এই বহুমুখীকরণকে এখন আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।


জ্বালানি নিরাপত্তার প্রথম শর্ত হলো পর্যাপ্ত মজুত। সাম্প্রতিক সংকটে দেশের ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের মজুত স্বাভাবিকের তুলনায় নেমে আসার ঘটনা আমাদের সতর্ক করেছে।


 শুধু নিয়মিত আমদানি করলেই হবে না, অন্তত ৯০ দিনের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা দরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে না। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের শিল্প ও পরিবহন খাতও আগাম সরবরাহ পরিকল্পনা করতে পারবে, যা অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা কমাবে।


এর পাশাপাশি আমদানির অর্থায়নব্যবস্থায় নমনীয়তা দরকার। জ্বালানি আমদানিতে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা তারল্য নিশ্চিত করতে হবে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও