নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ?

বিডি নিউজ ২৪ জান্নাতুল রুহী প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৬

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল এশিয়ান গেমস থেকে কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরেছে। ২০১০ সালে অভিষেকেই রুপা, এরপরে ২০১৪ সালে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ সালেও ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া দলটি ২০২৬-এসে তিনটা ম্যাচের মধ্যে একটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাকি দুটিতেই হারের মুখোমুখি হয়। এই ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে পরিবর্তনের পালা।


পরিবর্তন হয়েছে প্রধান কোচ, ম্যানেজার, এমনকি ব্যাটিং কোচও আর থাকছেন না। সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের দলেও পরিবর্তন এসেছে। এই সব নতুনদের নিয়েই বাংলাদেশ দল কয়েকদিনের ব্যবধানে ৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে।


অর্থাৎ সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে খুব দ্রুত। আবার এই পরিবর্তিত নতুনদের জন্য অনুশীলনের সুযোগও নেই বললে চলে। প্রশ্ন আসাটা খুবই স্বাভাবিক যে, দ্রুত এই পরিবর্তনগুলোর আসল ফলাফল কতটা পাওয়া যাবে? আর যে সংকট নিয়ে এত আলোচনা, তা কি শুধু মানুষ বদলেই সমাধান হয়ে যাবে?


কী কী পরিবর্তন হলো


পরিবর্তনের তালিকাটা আসলে বেশ বড়। প্রধান কোচের চেয়ারে সারোয়ার ইমরানের জায়গায় এসেছেন ডেভিড হেম্প। যাত্রাপথের জটিলতার কারণে তিনি বাংলাদেশে না এসে ৩ অক্টোবর সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। অর্থাৎ নতুন কোচের হাতে দলকে কাছ থেকে দেখার, নিজের পরিকল্পনা বোঝানোর এবং প্রয়োজনে নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সময় বলতে গেলে থাকছেই না। কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এসেছে। ব্যাটিং কোচ নাছিরউদ্দিন ফারুক সজিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় অবশ্য আলাদা কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নতুন প্রধান কোচ হেম্পই এখন ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্বেও থাকবেন। সাবেক ক্রিকেটার গোলাম মর্তুজা দায়িত্ব নিয়েছেন ফিল্ডিং কোচ হিসেবে।


টিম ম্যানেজমেন্টেও পরিবর্তন করা হয়েছে। এস এম গোলাম ফাইয়াজের জায়গায় অস্ট্রেলিয়া সফরে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন বুলবুল বাশার।


অস্ট্রেলিয়াগামী দল নির্বাচনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ১৬ সদস্যের দলে ২০ মাস পর ফিরেছেন মুর্শিদা খাতুন। দলে জায়গা পেয়েছেন দিলারা আক্তার আর দিশা বিশ্বাস। আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা দিশার সঙ্গে প্রথমবার ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সী পেসার হাবিবা ইসলাম পিঙ্কি।


নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিগার সুলতানা জ্যোতি টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তিনিই অধিনায়ক থাকছেন।


পরিবর্তনগুলো অযৌক্তিকও নয়


বিষয়টা এমন নয় যে, পরিবর্তনগুলো অযৌক্তিক। হেম্পের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হলো, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোর বাইরে থেকে আসা কেউ নন। তিনি ২০২৩ সাল থেকে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি গত বছর ও চলতি বছরও দুটি টুর্নামেন্টে নারী দলের সঙ্গে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে নতুন প্রধান কোচ হলেও বাংলাদেশ দলের পরিবেশ তার কাছে পুরোটা অচেনা নয়।


আবার দল নির্বাচনেও কিছু পরিবর্তনের পেছনে পারফরম্যান্সের বিষয়ে যুক্তি আছে। মুর্শিদা খাতুন ২০ মাসের বেশি সময় পর ফিরেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজরে এসেছে। দিশা বিশ্বাস ইমার্জিং দলের হয়ে খেলেছেন, তার পারফরম্যান্সও ভালো ছিল।


অর্থাৎ, বলা যায়, পরিবর্তনগুলোর প্রতিটির কোনো না কোনো যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু এই পরিবর্তনে কি সাম্প্রতিক সংকটের সমাধান হবে?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও