সহিংসতার সমাজে অহিংসার শিক্ষা কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৮

একজন মানুষ রাস্তায় পড়ে আছেন। তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে অনেক মানুষ। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন, কেউ মন্তব্য করছেন, কেউ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করছেন। কিন্তু খুব কম মানুষ এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে। দৃশ্যটি শুধু একটি ঘটনার নয়; এটি আমাদের সময়ের একটি মানসিকতার প্রতিচ্ছবি—সহিংসতা দেখার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, সহিংসতা থামানোর অভ্যাস তৈরি হয়নি।


২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন সামনে রেখে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। অহিংসাকে শুধু সংঘাত এড়িয়ে চলার কৌশল নয়, শান্তি, সহনশীলতা ও মানবাধিকারের সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি আরও কঠিন—সহিংসতার এত বিস্তারের মধ্যে অহিংসার শিক্ষা কোথায়?


যুদ্ধ চলছে, রাজনৈতিক সংঘাত চলছে, ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে অপমান ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে এমনকি সড়কেও সামান্য বিরোধ অনেক সময় আক্রমণে গড়াচ্ছে। মানুষের ভাষা ক্রমেই কঠোর হচ্ছে; মতের পার্থক্যকে আমরা শত্রুতার কারণ হিসেবে দেখতে শুরু করেছি।


অহিংসার প্রয়োজন তাই শুধু যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য নয়। প্রয়োজন আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও। সহিংসতা মানেই অস্ত্র হাতে কাউকে আঘাত করা নয়। কাউকে অপমান করা, দুর্বল মানুষকে ভয় দেখানো, ভিন্নমতকে কথা বলতে না দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহনন করা, শিশুকে শাস্তির নামে নির্যাতন করা কিংবা পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে অবহেলা করাও সহিংসতার বিস্তৃত সংস্কৃতির অংশ। শারীরিক আঘাতের দাগ চোখে দেখা যায়; মানসিক আঘাতের ক্ষত অনেক সময় দেখা যায় না, কিন্তু তার স্থায়িত্ব দীর্ঘ।


এই জায়গায়ই অহিংসার প্রকৃত অর্থ বোঝা দরকার। অহিংসা মানে দুর্বল হয়ে থাকা নয়। অন্যায় মেনে নেওয়াও অহিংসা নয়। বরং অহিংসা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা নয়, অন্যায়কে পরিবর্তন করাই লক্ষ্য। মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের দর্শনের শক্তি এখানেই ছিল। তাঁর আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিল, কিন্তু তার পদ্ধতির কেন্দ্রে ছিল অসহযোগ, আত্মসংযম ও গণঅংশগ্রহণ।


ইতিহাসে অহিংস আন্দোলনের শক্তির আরও উদাহরণ আছে। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আন্দোলনে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নেতৃত্ব, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং পোল্যান্ডের সলিডারিটি আন্দোলন—বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে অহিংস প্রতিরোধ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। সব আন্দোলনের চরিত্র এক নয়, কিন্তু একটি বিষয় অভিন্ন: মানুষের ঐক্য ও নৈতিক শক্তি অনেক সময় অস্ত্রের শক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।


বাংলাদেশের ইতিহাসেও অহিংস গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। ভাষার অধিকার থেকে স্বাধিকার আন্দোলন, গণতন্ত্রের দাবিতে বিভিন্ন গণআন্দোলন—জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ অনেক সময় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান শক্তি হয়েছে। আমাদের ইতিহাস তাই শেখায়, মানুষের কণ্ঠকে দমন করা যায় সাময়িকভাবে; কিন্তু মানুষের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও