শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে তরুণদের দায়িত্ব
কেউ যদি এখন জানতে চায়, সরকারের কোন কোন মন্ত্রী রাতে চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে যান। সবাই এক বাকে বলবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ছাড়া আপাতত অন্যরা রিলাক্সে ঘুমাতে যান! তবে মাঝেমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে একটু চাপান-উতোর চলে। এখন ‘জ্বালানি নেই’ সিজন। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, চুলায় আগুন নেই।
তবে কিছুদিন আগেও শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া অন্যরা শান্তিতে ছিলেন। তখন ছিল ‘শিক্ষা’ সিজন। তখন অবস্থা এমন ছিল যে প্রতিদিন কোনো না কোনো পরীক্ষা চলেছে, সেটা হোক এসএসসি, এইচএসসি, মেডিকেল ভর্তি কিংবা চাকরির পরীক্ষা। বিগত সরকারের আমলে কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ‘আউট’ হলে, ব্যস! আগে শুনতাম শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিপদ। এখন ঝড়, বাদল, আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি, কেন্দ্রে পানি উঠেছে কি না সেই খবর নিয়েই মনে হয় মাননীয় মন্ত্রীকে ঘুমাতে যেতে হয়।
অথচ দেখুন, অন্য মন্ত্রীরা, যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোট-টাই পরে দেশ-বিদেশ ঘোরেন। আমাদের শিক্ষামন্ত্রীও কোট-টাই পরে ঘোরেন। তবে সেটা দেশের ভেতরে পরীক্ষাকেন্দ্রে, বিভিন্ন সেন্টারে। নকল ধরতে। ২৫ বছর আগেও তিনি হেলিকপ্টার নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে নকল বন্ধ করেছেন। তখন তিনি ছিলেন সফল শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
কিন্তু এখনকার শিক্ষার্থীরা জেন-জি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এরা সব দিকে এগিয়ে। তথ্য আদান-প্রদান, টেকনিক্যাল বিষয়, যোগাযোগ, নতুন আইডিয়া খোঁজা, সবকিছুতে এরা দ্রুত। ফলে এদের অন্য কাজ থেকে বিরত রেখে পড়ার টেবিলে ব্যস্ত রাখার জন্য দায়িত্বরতদের কৌশলী হতে হবে। এই ছাত্ররা সবাই আমাদের মতো মা-বাবার সন্তান। সবাই চান তাঁর সন্তান কাঙ্ক্ষিত লেখাপড়া শেষ করুক। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছে।
বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিন্তু ভুলের জন্য ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী সেই সুযোগও পাননি। জানা যায়, তিনি ভারত সরকারের খুব প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও কিন্তু ৩০ বছর আগের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রনেতা হিসেবে পরীক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তনের আন্দোলন করে আজকের মন্ত্রী হয়েছিলেন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- তরুণ প্রজন্ম
- শিক্ষাব্যবস্থা