অর্থ উপদেষ্টার কাছে যা ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’

প্রথম আলো বিরূপাক্ষ পাল প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২১

গত ২৮ আগস্ট একাত্তর টিভির ‘বিজনেস উইকএন্ড’ অনুষ্ঠানে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টার এক সাক্ষাৎকার নেন উপস্থাপক ইকবাল আহসান। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা জোরের সঙ্গে দাবি করেন, বর্তমানের সব সংকটই পতিত সরকারের তৈরি। তিনি আরও দাবি করেন, এই সরকার নাকি অতীতের সেই জঞ্জাল সাফ করছে। 


উপদেষ্টা মহোদয় উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক। কিন্তু তিনি তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথকে প্রাসঙ্গিক করে ফেললেন, ‘যা–কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।”’ তিনি বলেন, কোনো সংকটই সমসাময়িক নয়। সবই পুঞ্জীভূত সংকট। তাহলে কোনো উন্নতিও সমসাময়িক নয়। সবই অতীতের দান।  


অর্থনীতির ইতিহাস আমাদের যা শেখায়, তা হলো চলমান কোনো সংকটের জন্য অতীতের শাসন দায়ী হতেই পারে। কিন্তু পতিত আওয়ামী সরকারের শাসন তো দুই বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। সংকট কি তাহলে মধ্যবর্তী ইউনূস সরকারের আমল লাফ দিয়ে পার হয়ে বিএনপির ঘাড়ে পড়ল? আওয়ামী লীগের সংকট তো ইউনূস সরকারের ঘাড়ে পড়ার কথা। উপদেষ্টা মহোদয় মাঝখানের দেড় বছরের শাসন নিয়ে কোনো কথা বলেননি।  


স্বয়ং অর্থমন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন, ১৮ মাসের শাসন অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করেছে। তথ্যও তা-ই বলে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ বেকারত্বের কবলে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি—দুই-ই কমেছে। মবোক্রেসির স্বর্ণযুগে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। কিন্তু অর্থ উপদেষ্টা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ওপর এক উচ্চলম্ফ দিলেন। 


১৯৫৮ সালে চীনের নেতা মাও সে-তুং মহালম্ফের তত্ত্ব দিয়েছিলেন দেশটির শিল্পায়নে। সেটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। কিন্তু অর্থ উপদেষ্টা দায় চাপানোর লক্ষ্যে যে সময়গত উচ্চলম্ফতত্ত্ব প্রদান করলেন, তা কি সঠিক মূল্য পাবে? আরেকজন উপদেষ্টাও বর্তমানের জ্বালানিসংকটের কোনো দায় বর্তমান সরকারের ঘাড়ে পড়বে না—এমন তত্ত্ব দিয়ে খ্যাতি পেয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যে আজকাল উপদেষ্টারা যেভাবে মাঠ গরম করছেন, তাতে সংসদ সদস্যদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 


ওই সাক্ষাৎকারে অর্থ উপদেষ্টা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, তাঁরা একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অর্থনীতি হাতে পেয়েছেন। যদি জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের একজন নেতা এ রকম মন্তব্য করতেন, তাহলে এর উত্তর দেওয়ার তাগিদ অনুভব করতাম না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির একজন শিক্ষক ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ শব্দটির সংজ্ঞা না বুঝে তা ক্রমাগত উচ্চারণ করে গেলে বুঝতে হবে, সরকার এ বয়ানই শুনতে চাইছে সমাজস্বীকৃত পণ্ডিতদের মুখ থেকে।  

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও