হাইপার নাকি স্লো ট্রাভেল: কোন ট্রেন্ডে ঝুঁকছে এশিয়া প্যাসিফিকের পর্যটকেরা
ছুটি মানেই তো একটু পা ছড়িয়ে দেওয়া, আড্ডা আর ঝিমোনো, তাই না? কিন্তু টিকটক আর ইউটিউব শর্টসের যুগে ভ্রমণ জিনিসটি এখন যেন অলিখিত এক অলিম্পিক প্রতিযোগিতা। ভোর ৪টায় উঠে সূর্যোদয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেই হবে। অনেক সময় ক্লান্ত থাকলেও ক্যামেরার সামনে মুখে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে ভিডিও করা কিংবা ছবি তোলা। এসব করতে গিয়ে ছুটির আনন্দ তো দূরের কথা, মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছেন এশিয়া-প্যাসিফিকের পর্যটকেরা। বুকিং ডটকম-এর এ বছর করা ট্রাভেল হ্যাপিনেস ইনডেক্স জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘুরে বেড়াতে গিয়ে উল্টো ভ্যাকেশন বার্ন আউট বা মারাত্মক ক্লান্তিতে ভুগছেন সাধারণ ভ্রমণকারীরা। বুকিং ডটকম ১০টি দেশের ১০ হাজার ১৩৬ জন পর্যটকের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই জরিপ প্রকাশ করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌড় এবং ছুটির ট্র্যাজেডি
ইউটিউব ভ্লগ আর টিকটকের অ্যাস্থেটিক রিলস দেখে মানুষ প্লেনের টিকিট কাটেন। এদিকে বাস্তব পরিস্থিতি দাঁড়ায় বেশ করুণ। জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই জানিয়েছেন, ঘুরতে গিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপে থাকেন। কারণটাও সোজা। টিকটকে দেখা সেই পারফেক্ট ক্যাফেতে ঢুকে নিখুঁত ছবি তোলার পেছনে হুড়োহুড়ি করেন অসংখ্য মানুষ। ইউটিউবের ১০ মিনিটের ভ্লগ ফলো করতে গিয়ে সারা দিন এক রেস্তোরাঁ থেকে অন্য দর্শনীয় স্থানে দৌড়াদৌড়ি করেন এমন মানুষেরও অভাব নেই। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মনে করেন, ছুটির প্রতিটি সেকেন্ডের পাই পাই হিসাব তুলতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রমাণ’ দিতে হবে যে তাঁরা দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। তবে এই ইঁদুরদৌড়ে ব্যতিক্রম চীন। সেখানকার অর্ধেকের বেশি পর্যটক বলেছেন, তাঁরা ভ্রমণকালে বেশ শান্ত থাকেন। হয়তো তাঁরা ভিড়ভাট্টার ট্রেন্ড এড়িয়ে নিজস্ব তালে আনন্দ করতেই ভালোবাসেন।