হাকিম বদলেছে কিন্তু হুকুম বহাল রয়েছে
জাতীয়তাবাদ প্রগতিশীল ও সুবিস্তৃত থাকে তখনই, যখন তা পুঁজিবাদবিরোধী-সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হয়। বুর্জোয়াদের পক্ষে পুঁজিবাদবিরোধী হওয়া সম্ভব নয়; তবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগও ব্রিটিশবিরোধী অবস্থানে ছিল বটে; কিন্তু ওই জাতীয়তাবাদীরা সাতচল্লিশে যখন শাসনক্ষমতা পেয়ে গেল, তখন তাদের জাতীয়তাবাদের সীমা সংকুচিত হয়ে পড়ল এবং তাদের শোষণের পুঁজিবাদী চরিত্রটা প্রকট হতে থাকল। তাদের প্রধান কাজটা দাঁড়াল নিজেদের দেশের মানুষের ওপরই পুঁজিবাদী শাসন-শোষণ কায়েম করা। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কাঠামো রয়ে গেল আগের মতোই; বদলাল যা তা হলো শাসনকর্তা। হাকিম বদল হলো, হুকুম বহাল রইল।
উনসত্তরের অভ্যুত্থানের পরে প্রথমে নির্বাচন ও তারপরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসন নয়, আমরা স্বাধীনতাই পেয়ে গেলাম। বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলো। জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে উঠতি বুর্জোয়ারা যেমন ছিল, তেমনি ছিল সমাজতন্ত্রীরাও। আসলে সমাজতন্ত্রীরাই ছিল চালিকাশক্তি। সংগ্রামের কালে উঠতি বুর্জোয়ারা সমাজতন্ত্র-বিদ্বেষ প্রকাশ করা প্রয়োজন মনে করেনি, ঢেকেঢুকেই রেখেছে, যেটা তারা প্রকাশ করল স্বাধীনতার পরে।