৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে অতিথিশালা, ১৪ বছরেও থাকেননি কোনো পর্যটক

প্রথম আলো কটিয়াদী প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় পর্যটকদের থাকার জন্য ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে অতিথিশালা নির্মাণ করেছিল সরকার; কিন্তু নির্মাণের পর ১৪ বছর কেটে গেলেও এক রাতের জন্য সেখানে কোনো পর্যটক থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। অতিথিশালার রেজিস্টারও পুরো ফাঁকা। কোথাও কোনো অতিথির নাম-ঠিকানা নেই।


কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মসূয়া গ্রামে সত্যজিৎ রায়ের এই পৈতৃক ভিটার অবস্থান। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বাড়ি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই পর্যটকেরা আসেন; কিন্তু কটিয়াদীতে ভালো আবাসিক হোটেল না থাকায় দূরদূরান্তের পর্যটকেরা রাত্রিযাপন নিয়ে বিপাকে পড়েন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১১ সালে ভিটার পাশে অতিথিশালা নির্মাণ করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

দোতলা অতিথিশালা, সীমানাপ্রাচীর ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে অতিথিশালা নির্মাণ ও আসবাব কেনায় বরাদ্দ ছিল ৫২ লাখ টাকা। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে অতিথিশালাটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নানা জটিলতায় কখনো কোনো পর্যটক সেখানে রাত কাটাননি।


রেজিস্টারে পর্যটকের নাম নেই


১৩ আগস্ট সরেজমিনে অতিথিশালার প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অতিথিশালা দেখভালে কোনো তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ঝাড়ুদার সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস সেটি দেখাশোনা করেন। অতিথিশালার পাশেই তাঁর বাড়ি। ডেকে আনার পর সঞ্জিৎ চন্দ্র দাস ফটক খুলে দেন।


অতিথিশালার ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, সম্প্রতি রং করা হয়েছে। নিচতলা ও দোতলায় আলাদা খাট, সোফা, তিনটি শৌচাগার ও দুটি ডাইনিং টেবিল। আছে ড্রেসিং টেবিল, আলমিরাসহ প্রয়োজনীয় আসবাব। আইপিএস ও ইন্টারনেট সংযোগও আছে। অতিথিশালার রেজিস্টারে কোনো পর্যটকের নাম পাওয়া গেল না। কোথাও কলমের আঁচড় পড়েনি।


সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি দেখতে আসা কোনো পর্যটক অতিথিশালায় রাত কাটিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে সঞ্জিৎ বলেন, ‘না’। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অতিথিরা এক-দুবার থেকেছেন। অতিথিশালায় থাকতে কত টাকা লাগে, সেটিও জানেন না সঞ্জিৎ। তাঁর ভাষ্য, সুযোগ-সুবিধা থাকলে অতিথিরা এখানে থাকতে পারতেন; কিন্তু ব্যবস্থা না থাকায় কাউকে আগ্রহী হতে দেখা যায় না।


দায়িত্ব আছে, লোকবল নেই


অতিথিশালাটি উদ্বোধনের পর উপজেলা প্রশাসনের অধীন ছিল; কিন্তু অতিথিশালা পরিচালনার জন্য কোনো তত্ত্বাবধায়কের (কেয়ারটেকার) পদ সৃষ্টি করা হয়নি। পরে সঞ্জিৎ চন্দ্র দাসকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অতিথিশালার চাবি তাঁর কাছে থাকে। তবে এই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আলাদা কোনো বেতন পান না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও