উপকূলীয় বাংলাদেশে লবণাক্ততা ও অদৃশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঢাকা পোষ্ট রেজা সেলিম প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৩

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততাকে প্রধানত পরিবেশ, কৃষি ও জীবিকার সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রচলিত নীতি-আলোচনায় ফসলহানি, চিংড়ি চাষ, বাঁধের ক্ষতি, খাবার পানির সংকট এবং অভিবাসনের মতো বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব উদ্বেগ এখনো যথার্থ।


তবে দক্ষিণ খুলনা, বিশেষ করে রামপাল, মোংলা ও আশপাশের উপকূলীয় জনপদের অভিজ্ঞতা আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে, লবণাক্ততাকে এখন জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। এর সঙ্গে প্রজননস্বাস্থ্য, মাতৃনিরাপত্তা, প্রতিবন্ধিতা, অসংক্রামক রোগ (NCD) এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল সংক্রামক রোগের সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে।


এটি কোনো চূড়ান্ত কার্যকারণ সম্পর্কের দাবি নয়; বরং বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। উপকূলীয় পরিবারগুলো একই সঙ্গে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে—লবণাক্ত খাবার পানি, অতিরিক্ত তাপ, অনিশ্চিত জীবিকা, মৌসুমি পানিসংকট, পরিবর্তিত রোগ-পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকার।


জনস্বাস্থ্যের মূল প্রশ্ন হলো, এই সম্মিলিত ঝুঁকিগুলো মানুষের অনিবার্য দুর্ভোগ হিসেবে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ কি সেগুলো যথাযথভাবে গবেষণা করতে প্রস্তুত?


আমি The Journal of Climate Change and Health-এ প্রকাশিত যে গবেষণাপত্রে সহলেখক হিসেবে যুক্ত ছিলাম, সেখানে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশকে ‘কমিউনিটি প্ল্যানেটারি হেলথ’-এর একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত লবণাক্ততা চিংড়ি চাষ, শুষ্ক মৌসুমে আন্তঃসীমান্ত নদীর প্রবাহ হ্রাস, বাঁধ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসের কারণে আরও তীব্র হয়।


দক্ষিণ খুলনায় এসব কারণ কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এগুলো খাবার পানি, রান্না, খাদ্যব্যবস্থা, গৃহস্থালি শ্রম, গর্ভকালীন পরিচর্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগঝুঁকির মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।


গর্ভাবস্থা ও মাতৃস্বাস্থ্যের ঝুঁকি


সবচেয়ে জরুরি উদ্বেগগুলোর একটি হলো গর্ভাবস্থা। রামপাল ও মোংলার কমিউনিটি পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, গর্ভবতী নারীরা একই সঙ্গে কয়েকটি ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন—লবণাক্ত খাবার পানি, খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, তাপজনিত চাপ, নিরাপদ পানি সংগ্রহে দীর্ঘ পথ অতিক্রম, পর্যাপ্ত অ্যান্টেনেটাল ফলোআপের অভাব, দারিদ্র্য এবং উচ্চ রক্তচাপ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত না হওয়া।


অনেক পরিবার লবণাক্ত পানিকে গর্ভাবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখে না। অনেক নারীর নিয়মিত রক্তচাপও পরীক্ষা করা হয় না। ফলে শরীর ফুলে যাওয়া, মাথাব্যথা বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক গর্ভকালীন অসুবিধা হিসেবে উপেক্ষিত হতে পারে।


প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া কেবল উচ্চ রক্তচাপ নয়; এটি গর্ভাবস্থার একটি গুরুতর উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা, যা মা ও শিশু উভয়ের জীবনকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এটি জরুরি প্রসব, অপরিণত প্রসব, ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, মাতৃজটিলতা এবং নবজাতকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


উপকূলীয় উপজেলাগুলোয় যেখানে পরিবহন, রেফারেল এবং জরুরি প্রসূতি সেবা এখনো অসম, সেখানে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—এমন যেকোনো পরিবেশগত কারণই স্বাস্থ্যসমতা ও মানবনিরাপত্তার বিষয়।


অসংক্রামক রোগ ও পানির নিরাপত্তা


উদ্বেগটি শুধু গর্ভাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়। উপকূলীয় বাংলাদেশে পরিচালিত একটি কোহর্ট গবেষণায় খাবার পানিতে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ এবং রক্তচাপ বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য এটি সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ।


উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। লবণাক্ত পানি যদি জনসংখ্যার গড় রক্তচাপ সামান্য পরিমাণেও বাড়ায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর জনস্বাস্থ্যজনিত প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। তাই লবণাক্ত অঞ্চলে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধকে নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও