মূল্যস্ফীতি কমছে, স্বস্তি ফিরছে না কেন

ঢাকা পোষ্ট শোয়েব সাম্য সিদ্দিক প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭

মূল্যস্ফীতি কথাটা আমরা প্রায় প্রতিদিনই শুনি। কিন্তু সহজ করে বললে, মূল্যস্ফীতি হলো সময়ের সঙ্গে পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়া। আজ যে বাজার করতে ১ হাজার টাকা লাগে, কয়েক মাস বা এক বছর পর একই জিনিস কিনতে যদি আরও বেশি টাকা লাগে, তখনই আমরা মূল্যস্ফীতির চাপ বুঝতে পারি। আর মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ এই নয় যে আগের বাড়তি দাম কমে গেছে। এর অর্থ হলো, দাম এখন আগের তুলনায় একটু ধীরে বাড়ছে।


বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমছে। মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, আগস্টে নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। পাঁচ মাসে কমেছে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। আগস্টের হার গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং টানা তিন মাস ধরে কমছে।


খবরটি ভালো। কিন্তু বাজারে তার প্রভাব কতটা পড়েছে, সেটিই প্রশ্ন। কারণ ২০২৫ আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছর পর কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ দাম কমেনি, শুধু বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে যে জিনিসের দাম বেড়েছিল, এখনো তা সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।


তাই সরকারি হিসাব আর মানুষের বাজারের অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য থাকছে। একজন পরিবারের কাছে মূল্যস্ফীতি কমার খবর তখনই স্বস্তির, যখন বাজারের খরচ কমে বা আয় দিয়ে সেই খরচ চালানো সহজ হয়। শুধু কাগজে মূল্যস্ফীতি কমলেই সংসারের চাপ কমে না।


বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে চাপটা এখনো বেশ স্পষ্ট। পোশাক, জুতা, বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, রেস্তোরাঁ ও হোটেলের মতো খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে। পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। খাদ্যের দাম কখনো মৌসুমি সরবরাহের কারণে বাড়ে, আবার সরবরাহ বাড়লে কিছুটা কমেও। কিন্তু বাড়িভাড়া, শিক্ষার খরচ, পরিবহন ব্যয় বা বিদ্যুৎ বিল একবার বেড়ে গেলে আগের জায়গায় ফিরে আসা খুব কঠিন।


আরেকটি বড় সমস্যা হলো মজুরি। আগস্টে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের আয় বাড়ছে, কিন্তু দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয়।


বিবিএসের হিসাবে টানা সাড়ে চার বছর ধরে মজুরি মূল্যস্ফীতির পেছনে রয়েছে। বিষয়টি সহজ করে বললে, ২০২৫ সালে ১০০ টাকায় যে পণ্য কিনতে পারতেন, ২০২৬ সালে সেটির দাম হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। আপনার আয় ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা ৫ পয়সা হলেও আগের মতো পণ্য কেনা সম্ভব হবে না। এক বছরে পার্থক্যটা কম মনে হলেও কয়েক বছর ধরে এমন চললে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন যারা মজুরির ওপর নির্ভরশীল।


মানুষের আয় যখন দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না, তখন শুধু বাড়তি চাহিদাকে মূল্যস্ফীতির কারণ বলা কঠিন। জ্বালানি, আমদানি, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচও দাম বাড়াচ্ছে। তাই শুধু সুদহার বাড়িয়ে এই মূল্যস্ফীতি কমানো যাবে না, উৎপাদন ও সরবরাহের খরচও কমাতে হবে।


সরকারের জন্য এখানেই মূল চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু একটি পূর্বাভাসে এ বছরের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এটিই সর্বোচ্চ। একই পূর্বাভাসে ভারতের ৪, নেপালের ৫, শ্রীলঙ্কার ৫ দশমিক ২ এবং পাকিস্তানের ৮ দশমিক ৩ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমস্যা শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে নয়। দেশের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতাও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও