নিরাপত্তাহীন নাগরিক, নির্বিকার খুনি—রাষ্ট্র কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৯

রংপুরে ৪ জনকে খুন করে বাসায় বসেই খেজুর, শসা খেয়েছে খুনিরা। শুধু তাই নয়, তারা গোসলও করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চারজনকে খুন করে দ্রুত পালিয়ে না গিয়ে, নিস্পৃহভাবে মানুষ যে খাওয়া-দাওয়া করতে পারে, এই দৃশ্যটা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন।


শুধু তাই নয়, মৃতদের চেহারাও নাকি তারা অ্যাসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। নৃশংসভাবে খুন করার পর, সেইসব বিকৃত মৃতদেহকে সামনে রেখে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারার মানসিকতা যে বাড়ছে, তা এখন বলাই বাহুল্য।


বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই আমরা দেখতে পারছি, হত্যা করার ক্ষেত্রে অপরাধীরা একদিকে পৈশাচিক পন্থা অবলম্বন করছে, অন্যদিকে হত্যা করার পরও খুনি ভাবলেশহীন থাকছে। এমনকি বিচারের মুখোমুখি হয়েও তাদের মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই।


আমাদের সকাল হচ্ছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের মতো ঘটনা শুনে, রাতে ঘুমাতে যেতে হচ্ছে এই রকমই অন্য কোনো বীভৎস ঘটনার কথা জেনে। নিউজ মিডিয়ার ফিডে ক্রমাগত ভেসে আসছে হত্যা, ধর্ষণ, মব সন্ত্রাস, নারীর প্রতি সহিংসতা ও অন্যান্য দুর্ঘটনার খবর।


নিত্যনৈমিত্তিক এইসব ভয়াবহ ঘটনা আমাদের কাছে খুব সাধারণ হয়ে উঠছে। ধরেই নিয়েছি, যেকোনো সময়, যেকোনো পরিবারে রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের মতো পরিণতি ঘটে যেতে পারে।


এমনকি বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “প্রতি মাসে কমবেশি ৩০০-এর মতো খুনের ঘটনা ঘটছে। গড়ে প্রতিদিন ১০টা করে খুন যেন আমাদের ভাগ্যে লেখা রয়েছে।” (সূত্র: বিবিসি বাংলা)


ভয় হচ্ছে, প্রতিদিন ১০টা করে খুনের খবর আমাদের মধ্যে ‘নার্কোটাইজিং ডিসফাংশন’ তৈরি করছে কি না? এই ‘নার্কোটাইজিং ডিসফাংশন’ সমাজবিজ্ঞান ও গণযোগাযোগের ক্ষেত্রে এমন একটি অবস্থা বোঝায়, যেখানে গণমাধ্যম অতিরিক্ত তথ্য ও সংবাদ পরিবেশন করে মানুষের চেতনাকে অসাড় করে তোলে। ফলে তারা কেবল তথ্য জেনেই সন্তুষ্ট থাকে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিবাদ করে না।


পল লাজারসফেল্ড এবং রবার্ট মার্টন ১৯৪৮ সালে এই ধারণাটি দেন। তারা বলেন, চেতনা অসাড় হয়ে গেলে, মানুষ তথ্য জেনেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয় না। যোগাযোগমাধ্যম থেকে যে অসংখ্য তথ্য পায়, তা সমাজের সমস্যাগুলোর প্রতি কেবল একটি উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।


এর ফলে সমাজের আসল বা বাস্তব পদক্ষেপগুলো উপেক্ষিত হয়, আর এই অগভীর উদ্বেগ দিয়ে ভেতরের গণ-উদাসীনতাকে ঢেকে রাখা হয়। তাই, এটিকে ‘ডিসফাংশনাল’ বা অকার্যকর বলা হয়। কারণ রাজনৈতিকভাবে উদাসীন ও জড় একটি ‘নিষ্ক্রিয় সমাজ’ মানুষের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও