সব নাগরিকের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এতদিন তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন এবং কয়েক দশক ধরে সেই দলের কর্মসূচি, সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আর শুধু বিএনপি, সরকার কিংবা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিনিধি নন। তিনি এখন প্রায় ১৭ কোটি বাংলাদেশির রাষ্ট্রপতি-বিএনপির সমর্থক, বিরোধী দলের সমর্থক, দলনিরপেক্ষ নাগরিক, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানকারী সব বাংলাদেশির অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রপ্রধান।


রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হওয়া উচিত সংবিধান ও সাংবিধানিক নৈতিকতার অভিভাবক হিসাবে কাজ করা। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংবিধান ও আইন তাকে যেসব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি সেগুলো প্রয়োগ ও পালন করবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হলেও তার অর্থ এই নয় যে, রাষ্ট্রপতির পদটি সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন বা শুধু আনুষ্ঠানিক। রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও সমর্থনের শপথ গ্রহণ করেন। এ শপথ শুধু আনুষ্ঠানিক বাক্য নয়; এটি একটি গুরুতর নৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হলেও রাষ্ট্রপতি প্রস্তাবিত কোনো সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি, সাংবিধানিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য জাতীয় পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারেন।


রাষ্ট্রপতিকে সরকার ও সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে মনে করিয়ে দিতে হবে, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া কিংবা সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সীমাহীন ক্ষমতার অনুমোদন নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল রাষ্ট্রের শত্রু নয়; বরং বিরোধী দল জবাবদিহি, ভারসাম্য ও বিকল্প রাজনৈতিক চিন্তার অপরিহার্য অংশ। একইভাবে, সরকারের সমালোচনা করা রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। একজন কার্যকর রাষ্ট্রপতি এ ধরনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় নৈতিক নেতৃত্ব দিতে পারেন। বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। যেসব নিয়োগে তার আনুষ্ঠানিক, সাংবিধানিক কিংবা পরামর্শমূলক ভূমিকা রয়েছে, সেখানে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে যোগ্যতা, সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরকে প্রতিটি সরকারি প্রস্তাবের স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনে পরিণত করা উচিত নয়। সাংবিধানিকভাবে কোনো পরামর্শ মানতে বাধ্য হলেও তিনি তার আইনগত ভিত্তি ও জনস্বার্থের দিকটি পরীক্ষা করতে পারেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসে তার দায়িত্ব শুধু নথিতে স্বাক্ষর করা নয়; তার দায়িত্ব হলো নিশ্চিত হওয়া যে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো সংবিধান, আইন ও জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমা প্রদর্শন, দণ্ড স্থগিত, হ্রাস বা পরিবর্তনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষমতা অত্যন্ত সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। দলীয়ভাবে প্রভাবশালী অপরাধী, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক কিংবা বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের সুযোগ ব্যবহার করা হলে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিটি আবেদন অপরাধের প্রকৃতি, আদালতের পর্যবেক্ষণ, মানবিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত।


সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসাবে রাষ্ট্রপতিকে বাহিনীগুলোর পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে। কোনোভাবেই সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় রাজনীতিতে জড়ানো কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা হবে বাহিনীর সাংবিধানিক আনুগত্য, পেশাগত দক্ষতা, আধুনিকায়ন ও গণতান্ত্রিক বেসামরিক কর্তৃত্বের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রপতির উচিত প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। গুরুতর রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে তিনি বঙ্গভবনকে নিরপেক্ষ আলোচনার স্থান হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি হয়তো নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারবেন না, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। সব পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সমঝোতার পথ খুঁজতে সহায়তা করা একজন রাষ্ট্রপতির অত্যন্ত মূল্যবান অবদান হতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও