জাতিসংঘের মূলনীতিগুলো অনেকাংশে তুলে ধরে ব্রিকস

www.ajkerpatrika.com ড. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি ‘অলটারনেটিভস’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।


নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও যোগদান না করার সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?


ইমতিয়াজ আহমেদ: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর যোগদান না করার সিদ্ধান্তটিকে আমি এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দিয়ে মূল্যায়ন করতে চাই না। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে শুধু আবেগ বা মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিচার করলে চলবে না। এর পেছনে যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকে, তা বুঝতে খানিকটা সময় ও তথ্য উভয়ই প্রয়োজন। আমার কাছে মনে হয়, এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো, না যাওয়ার ফলে আমরা আসলে কী পেলাম? বিশেষ করে অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে।


এখন এ সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অর্থনীতির আকার বড় করা। আর সেই লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো। সেই জায়গা থেকে বিচার করলে, ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলাম কি না, সেটার একটা যথাযথ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন। আমার ধারণা, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই এটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে না গিয়ে আমাদের সত্যিকার অর্থে কোনো লাভ হয়েছে কি না। নাকি এই সিদ্ধান্তের ফলে আমরা একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া করলাম।


যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ছিল কি?


ইমতিয়াজ আহমেদ: এই না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপ কাজ করেছে কি না, তা আমার সরাসরি জানা নেই। তবে যদি সত্যিই এমন কোনো চাপ থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমার কাছে বেশ অস্বাভাবিক মনে হবে। কারণ, ব্রিকসে এবার যারা অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে এমন একাধিক দেশ আছে যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও দীর্ঘদিনের। ইন্দোনেশিয়া তার একটি বড় উদাহরণ। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত হওয়া সত্ত্বেও তারা ব্রিকসে যোগ দিতে দ্বিধা করেনি। একই কথা প্রযোজ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রেও, যারা এবারও আমন্ত্রিত ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ একাধিক মিত্র রাষ্ট্র যদি নির্বিঘ্নে ব্রিকসে অংশ নিতে পারে, তাহলে শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কাজ করবে—এই যুক্তি আমার কাছে খুব একটা যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয় না। এটা বলা মুশকিল যে আমাদের কূটনৈতিক কাঠামো ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্রও ব্রিকসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। তবে যদি সত্যিই অন্য কোনো দেশের চাপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে (যার পক্ষে আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই), তাহলে আমার মনে হয় সেই দেশের সঙ্গে সরাসরি বসে আলোচনা করা প্রয়োজন।


আমি মনে করি যে ভারত, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কী চায় বা চায় না—এসবের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বাহ্যিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করলে তা কখনোই দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না। আমি সব সময় বলে এসেছি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেন্দ্রিক হওয়া দরকার।


এ সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্রে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি তৈরি হতে পারে?


ইমতিয়াজ আহমেদ: যেভাবে বলা হচ্ছে যে আমন্ত্রণটি বিমসটেকের প্রধান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল বলেই আমরা যাইনি, সেই ব্যাখ্যা আদৌ সঠিক কি না—তা নিয়েও আমার সংশয় আছে। আসল প্রশ্ন হলো, না গিয়ে আমাদের প্রকৃত লাভ কী হলো? মনে রাখতে হবে, সব দেশের সঙ্গেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বড় পরিসরে বাড়ানো প্রয়োজন। এটা কোনো একটি মাত্র সম্মেলনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্ন নয়, বরং একটা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।


আমি একটা সম্ভাবনার কথাও ভাবছি। ভারত হয়তো নিজেই চায়নি বাংলাদেশ ব্রিকসে যোগ দিক। কারণ, এটা মূলত রাশিয়া-চীনকেন্দ্রিক একটি সংস্থা হিসেবে পরিচিত। আর ভারত এখানে একদিকে রাশিয়া-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টার মধ্যে ভারত হয়তো চায়নি বাংলাদেশও এই কাঠামোয় সরাসরি যুক্ত হোক। সে কারণেই হয়তো আমন্ত্রণটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ যেতে না পারে।


এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় এ বিষয়ে ব্রিকসের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা দরকার। কারণ, না যাওয়ার ফলে একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের যে বড় সুযোগ ছিল, তা হাতছাড়া হয়েছে। আর কূটনীতিতে এই ধরনের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের গুরুত্ব কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।


আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঠিকঠাক চলছে কি না এবং বিনিয়োগ আসছে কি না। যতক্ষণ না তা স্পষ্ট হয়, ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। যদি দেখা যায় যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় আকারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তাহলে বোঝা যাবে যে না গিয়ে কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যদি মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় এবং কোনো নড়াচড়া দেখা না যায়, তাহলে বুঝতে হবে—হয়তো সরাসরি বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, কিন্তু লাভও হয়নি। এই দুইয়ের পার্থক্যটা বোঝার জন্যও আমাদের কিছুটা সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও