You have reached your daily news limit

Please log in to continue


মক্কা চুক্তি বাংলাদেশের সামনেও নতুন যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে

মুসলমানদের কাছে মক্কা যেকোনো শহরের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শাসকেরা যে এ শহরকে সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে, সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য শুক্রবারকে বেছে নেওয়াও একই বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রিদেশীয় এই জোট একটা ধর্মীয় প্রচ্ছদ পাক, সেটাই হয়তো চেয়ে থাকবেন মোহাম্মদ বিন সালমান, রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও শাহবাজ শরিফ। নিজ নিজ দেশে ভোটের মেরুকরণে এ ধরনের ধর্মীয় প্রচ্ছদ তাঁদের সাহায্য করবে। যদিও গাজায় আগ্রাসনকারীদের রুখতে এসব শাসকেরা উল্লেখযোগ্য কিছু করেননি।

শুক্রবার মক্কায় যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরকারীদের অঙ্গীকারের দৃঢ়তাও প্রকাশ করে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিরক্ষাচুক্তির মাধ্যমে ঠিক কী রক্ষা করতে চাইছে এসব দেশ? তিন মাঝারি সমরশক্তির এই কাছাকাছি আসা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বাড়তি কোনো তাৎপর্য বহন করে কি না?

কৌশলগত বহুমুখিতা শুরু চারদিকে

ত্রিদেশীয় এই চুক্তিভুক্তরা সীমান্তসংলগ্ন নয়। ফলে একে আঞ্চলিক জোট বলা যায় না। সৌদি আরবের বাড়তি আগ্রহই যে শাহবাজ শরিফ ও এরদোয়ানকে মক্কায় টেনে এনেছে, সেটা অনুমান করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে যেসব শাসক এত দিন মসনদ রক্ষা করেছে, তাদের সেই পুরোনো সুবিধার অবসান ঘটতে চলেছে ক্রমে। এ অঞ্চলের রাজপরিবারগুলো বহুকাল এ রকম সুরক্ষাব্যবস্থায় নিরাপদে ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষশক্তির মোকাবিলায় নেমে ইরান ওয়াশিংটনের আরব মিত্রদের পুরোনো সেই সুরক্ষার ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

এ দৃশ্য থেকে বিশ্বের অনেক দেশ তাৎক্ষণিক কিছু শিক্ষা নিয়েছে। সবাই নিজ নিজ প্রতিরক্ষা নীতি-কৌশল পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাস করছে। কৌশলগত বহুমুখিতা শুরু হয়েছে চারদিকে। মক্কা চুক্তি তার প্রথম বড় প্রকাশ। রূঢ় এক বাস্তবতার চাপই দূরে দূরে থাকা তিন শক্তিকে কাছাকাছি এনেছে। তবে চুক্তিবদ্ধ সবাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা না ছেড়েও নিজ নিজ আন্তর্জাতিক ইমেজে বাড়তি ভার যোগ করতে পারল। চুক্তির পরও রিয়াদ-ওয়াশিংটন, ইসলামাবাদ-বেইজিং সখ্য থাকছে। তুরস্ককেও ন্যাটো ছাড়তে হচ্ছে না।

এ চুক্তি অর্থনৈতিক পটভূমিও বিবেচনায় রাখার মতো। উপসাগরীয় দেশগুলো বৈশ্বিক পুঁজিতন্ত্রের বড় এক ভরকেন্দ্র। আগ্রাসনের মুখে ইরানের পাল্টা আঘাত সেখানকার সম্পদ ও বিনিয়োগে ঝাঁকুনি দিয়েছে। পুঁজিতান্ত্রিক এই ভরকেন্দ্রগুলো সুরক্ষার ব্যাপারও অনেকের কাছে দরকারি ছিল। ফলে মক্কা চুক্তিতে কেবল তিন দেশের স্বার্থ জড়িত, এমন নয়; এর একটা বড় পলিটিক্যাল ইকোনমিও আছে। তবে চুক্তির মুহূর্তটার চেয়েও সবাই দেখতে আগ্রহী, কতটা গুরুত্ব দিয়ে তিন দেশ সেটাকে কাজে লাগাচ্ছে। ন্যাটোর মতো এর কোনো একক কমান্ড স্ট্রাকচার থাকবে কি না, সে–ও স্পষ্ট নয় এখনো।

মক্কা চুক্তি ভারত-ইসরায়েলকে আরও কাছে আনছে

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ও এর ফলাফল যে এ চুক্তির পটভূমি তৈরি করেছে, সেটা না মেনে উপায় নেই। চুক্তি স্বাক্ষরকারী তিন শাসকই যুক্তরাষ্ট্রের কমবেশি ঘনিষ্ঠ। এসব কারণেই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, চুক্তির প্রতিপক্ষ ইরান কি না? ইসরায়েলের কথাও কেউ কেউ ভেবে থাকবেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগমুহূর্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, তাঁদের জন্য এ চুক্তি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ? বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বৈরী সম্পর্কের পটভূমিতে ত্রিদেশীয় এই সামরিক জোট নয়াদিল্লির জন্য অধিক চাপ তৈরি করল কি না? তারাও কি তবে ‘প্রতিরক্ষা’ সক্ষমতা বাড়াতে অন্য কারও সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে চাইবে?

চুক্তিতে রয়েছে, আলোচ্য তিন শরিকের কেউ আক্রান্ত হলে সেটা তিন দেশের আক্রান্ত হওয়া হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। এই অনুচ্ছেদ ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো। যার ব্যাখ্যা এ–ও দাঁড়ায়, ভারত-পাকিস্তান যেকোনো ভবিষ্যৎ যুদ্ধে তুরস্ক ও সৌদি আরবও ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াবে। কিংবা ইরান-সৌদি যেকোনো সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক তেহরানের বিরুদ্ধে লড়বে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে সৌদি আরবে কিছু পরিমাণে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং জওয়ান মোতায়েন করেছে। ত্রিদেশীয় এ চুক্তির আগে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের পৃথক আরেকটি সামরিক চুক্তি হয়েছিল। পরের চুক্তি নিঃসন্দেহে আগের চুক্তির চেয়ে বড় আকারের অগ্রগতি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন