পরিষ্কার মানুষ পুরস্কার পেলেন শেষে

জাগো নিউজ ২৪ ড. মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৩

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্নতা এখন প্রায় দুর্লভ এক অলংকার। ক্ষমতার রাজনীতিতে যখন পদ-পদবি, অর্থ, প্রভাব, আনুগত্য ও প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার সক্ষমতাই অনেক সময় যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে একজন সজ্জন, ভদ্র, সংযত ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। সেই অর্থে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মহামান্য  রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক ইতিবাচক পরিণতিও বটে।


গেল ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদের ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ১৯৯১ সালের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গত ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে শপথ নেন নতুন রাষ্ট্রপতি।  


এই লেখার শিরোনামটি শুধু আমার প্রশংসামূলক অভিব্যক্তি বা সাধারণ বাক্য নয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। রাজনীতিতে অনেকেই খুব দ্রুত ওপরে ওঠেন, আবার দ্রুতই হারিয়েও যান। কেউ ক্ষমতার কাছাকাছি গিয়ে ক্ষমতাবান হন, কেউ ক্ষমতা হারিয়ে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েন। কিন্তু কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য, ভদ্রতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই বিরল ধরনের রাজনীতিকদের একজন এবং এমন মূল্যায়ন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলোচনায় বারবার এসেছে।


তিনি একদিনে রাষ্ট্রপতি হননি। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিক ধাপে ধাপে রাজনীতির মাঠে উঠে এসেছেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলীয় মহাসচিব ও মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।


এই পদত্যাগের ঘটনাটিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রপতির পদে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিচয় তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন যা পেছনে রেখে যেতে হয়েছে। এখন তাঁর সামনে নতুন পরিচয় তিনি পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। দলীয় রাজনীতির নেতা থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবক, এই রূপান্তরই হবে তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


মহামান্য  রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলো দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর টিকে থাকা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে তিনি কারাবরণ করেছেন, মামলা মোকাবিলা করেছেন, রাজনৈতিক চাপ সহ্য করেছেন। অথচ তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক আচরণে সাধারণত যে বিষয়টি চোখে পড়ে তা হলো সংযত ভাষা ও পরিমিত বক্তব্য। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করেছেন, কিন্তু ব্যক্তিগত কটূক্তি বা অশালীন বাক্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁকে বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিকের তুলনায় আলাদা করে দেখা হয়।


এ কারণেই সজ্জন শব্দটি তাঁর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিধানে বিশেষ অর্থ বহন করে। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁকে কেবল সজ্জন হলেই চলবে না। তাঁকে হতে হবে সাংবিধানিকভাবে দৃঢ়, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং নৈতিকভাবে আরো বিশ্বাসযোগ্য।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও