বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কি শেখ হাসিনাতেই আটকে থাকবে?

বিডি নিউজ ২৪ পপি দেবী থাপা প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৫

ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তাড়না উভয় পক্ষেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সব আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ আটকে দিচ্ছে ‘শেখ হাসিনা ইস্যু’। ভারতের মাটিতে তার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি দাবি দুই দেশের সম্পর্কে এক মনস্তাত্ত্বিক বাধা ও গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের আগে ভারতের সঙ্গে অন্য কোনো আলোচনা হতে পারে না। এই রাজনৈতিক টানাটানির মুখে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে: ঢাকা–দিল্লির কূটনীতি কি তবে শেখ হাসিনাতেই আটকে থাকবে?


এই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হাজির করেছে। একদিকে সরকারকে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক অসন্তোষকে সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত জাতীয় স্বার্থের জটিল ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে বসার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। কারণ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা তো সম্ভব নয়।


এই পরিস্থিতি সরকারের সামনে কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা হাজির করেছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষকে সামাল দেওয়া, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত জাতীয় স্বার্থগুলো নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসা—কোনোটিই এড়ানোর সুযোগ সরকারের নেই। কারণ, রাজনৈতিক টানাপোড়েন যা-ই বলুক না কেন, প্রতিবেশী দুই দেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা অসম্ভব


কূটনীতির জটিল হিসাবের বাইরেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনগণের আবেগ, অভিন্ন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, নদী, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা। কিন্তু ইতিহাসের এই ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সম্পর্কটি এক নতুন ও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী স্লোগান ও জনমতের একটি অংশের ক্ষোভ, অন্যদিকে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও যোগাযোগে সহযোগিতার বাস্তব প্রয়োজন-এই দুই বিপরীত প্রবণতার মাঝেই গত দুই বছরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে চলতে হয়েছে।


এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারতের ভিসা নীতির প্রশ্ন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে সীমিত বা বন্ধ থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অথচ দুই দেশের সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নয়; চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনও এর সঙ্গে জড়িত। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যখন মানুষের যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগে পড়ে, তখন দূরত্ব শুধু রাষ্ট্রের মধ্যে নয়, মানুষের মনেও তৈরি হয়।


বর্তমান সম্পর্কের জটিলতার অন্যতম কেন্দ্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্ন। বাংলাদেশের দৃষ্টিতে এটি আইন, বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের বিষয়; অন্যদিকে ভারতের কাছে বিষয়টি আইনগত, রাজনৈতিক ও কৌশলগত হিসাবের সঙ্গে যুক্ত। ভারত বলছে, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচিত হচ্ছে। দাবি ও আইনের এই জটিলতা বর্তমান সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও