টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ

কালের কণ্ঠ মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৩

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি, ২০০১-২০১৫) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি, ২০১৫-২০৩০) অর্জনের সর্বজনীন লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য হ্রাস। বাংলাদেশ এই লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনো অনেক দূরে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। ২০০১ সালে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ গত ২৩ বছরে চরম দারিদ্র্য মাত্র ৬ শতাংশ কমেছে। দারিদ্র্য নিয়ে বহু সংজ্ঞা, তত্ত্ব ও গবেষণা রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরও দারিদ্র্য প্রত্যাশিত হারে কমেনি। দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—প্রবৃদ্ধি বাড়লে কর্মসংস্থান হবে, কর্মসংস্থান বাড়লে আয় বাড়বে, আর আয় বাড়লেই দারিদ্র্য কমবে। বাস্তবে দেখা গেছে, ওপর থেকে নিচে চাপিয়ে দেওয়া এই উন্নয়ন ধারণা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য তৃণমূলভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উৎপাদনমুখী উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।


প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি ও অকৃষি উভয় খাতেই উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী-পুরুষের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক উৎপাদনকারীরা এখনো ব্যাংক ও প্রচলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পান না। ফলে ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোফিন্যান্স তাঁদের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এর অবদান অনস্বীকার্য। প্রাথমিক মূলধনের অভাবে যাঁরা উদ্যোক্তা হতে পারতেন না, ক্ষুদ্রঋণ তাঁদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। শুধু জীবিকার উন্নয়ন নয়, এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা লাখো মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় এনে মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের পথকে শক্তিশালী করেছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এখনো সমানভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা যায়নি। বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি দারিদ্র্যসীমার ওপরে অবস্থানকারী ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন।


বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প) মনে করে, আর্থিক সুযোগপ্রাপ্তি একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাদের মতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শুধু ঋণ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং সঞ্চয়, আমানত, অর্থ প্রেরণসহ পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।


মাইক্রোফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জামানতবিহীন ঋণ দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে, আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ক্ষুদ্রঋণ ভবিষ্যতেও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও