মানবসভ্যতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণ

www.ajkerpatrika.com আসিফ প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭

একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিল্পবিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রথাগত ডেটা প্রসেসিং কিংবা চ্যাটবটের সীমানা ছাড়িয়ে প্রযুক্তিবিশ্ব বর্তমানে প্রবেশ করেছে স্বায়ত্তশাসিত (অটোনোমাস) এআই এজেন্টের যুগে, যা প্রত্যক্ষ মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানে সক্ষম। তবে এই অভূতপূর্ব সক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গেই উন্মোচিত হচ্ছে মারাত্মক নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি।


সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বখ্যাত এআই গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষাকালীন তাদের তৈরি একটি স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্ট নির্ধারিত নিরাপত্তার সীমানা অতিক্রম করে ‘রৌগ’ (Rogue) বা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। এজেন্টটি নিজস্ব যুক্তি প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় উন্মুক্ত এআই মডেল ও ডেটাসেট প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের সিস্টেমে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ ও হস্তক্ষেপ করে। ঘটনাটি নিছক কোনো সফটওয়্যার ত্রুটি নয়; বরং তা বিশ্ব সমাজকে এক কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব শুধু উন্নত বিশ্বে নয়, দ্রুত ডিজিটালাইজড হতে থাকা বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

স্বায়ত্তশাসিত এআই এজেন্টগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো লক্ষ্যভিত্তিক কাজ পরিচালনা করা। মানব পরিচালকেরা এদের একটি নির্দিষ্ট চূড়ান্ত ফল বা লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন, আর এজেন্টটি কীভাবে সেখানে পৌঁছাবে, তার কৌশল ও ধাপসমূহ নিজে থেকেই ঠিক করে নেয়। তবে লক্ষ্য অর্জনের এই প্রক্রিয়ায় এজেন্টটি যদি নির্মাতাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করে অনির্ধারিত, ক্ষতিকারক বা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেয়, তবে প্রযুক্তিবিদদের ভাষায় তাকে রৌগ এআই বলা হয়।

যদিও ওপেনএআই এবং হাগিং ফেস উভয় সংস্থাই নিশ্চিত করেছে, এই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো স্পর্শকাতর ডেটা বা তথ্যের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবু এটি বিশ্ববাসীকে এক স্পষ্ট সতর্কবার্তাই দিয়েছে। ঘটনাটি প্রমাণ করে যে এআই এজেন্ট যদি নিজ থেকে নিরাপত্তাপ্রাচীর ভেদ করার মতো কৌশল ও যুক্তি তৈরি করতে শুরু করে, তবে প্রাতিষ্ঠানিক তথা বৈশ্বিক সাইবার সুরক্ষার মূল ভিত চরম হুমকির মুখে পড়বে।


প্রাযুক্তিক দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাগিং ফেসের ঘটনাটি প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তার ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে সাইবার নিরাপত্তা মূলত মানব হ্যাকার, ক্ষতিকারক সফটওয়্যার কিংবা ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়, যেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো মানুষের আচরণের ধরন অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু যখন কোনো স্বায়ত্তশাসিত এআই নিজে থেকে হ্যাকার হয়ে ওঠে, তখন পরিস্থিতির মোড় সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরে যায়। এআইয়ের এই দ্রুত গতিশীল এবং অভিযোজনশীল কৌশলের সামনে প্রথাগত ফায়ারওয়াল বা ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেমগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে।


এখানে প্রধান প্রযুক্তিগত সমস্যা হলো ‘অ্যালাইনমেন্ট প্রবলেম’। এআই মানব নৈতিকতা, আইন কিংবা সামাজিক ক্ষতি অনুধাবন করতে পারে না; বরং এটি শেখে কীভাবে যেকোনো উপায়ে নির্দেশিত কাজটি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা যায়।


এই অনিয়ন্ত্রিত এআইয়ের ঝুঁকি বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে যেমন প্রভাবিত করছে, তেমনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এর স্পষ্ট ঝুঁকি ও বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। যেমন বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাত, অর্থাৎ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বা ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং, বিকাশ/নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং শেয়ারবাজার এখন প্রযুক্তিনির্ভর। ব্যাংকিং বা এআই-চালিত অ্যালগরিদমিক লেনদেনে যদি কোনো রৌগ এআই অনুপ্রবেশ করে, তাহলে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে।


এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিংয়ের অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণে রাখলে, এআই-চালিত এই নতুন ধাঁচের সাইবার হামলা দেশের আর্থিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক ধসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও