ডিনায়ালের রাজনীতিতে রিকনসিলিয়েশন কতটা বাস্তবসম্মত

প্রথম আলো ড. বুলবুল সিদ্দিকী প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:৩৩

বিপ্লবপূর্ব চীনের চিং রাজবংশের শেষ রাজা ছিলেন আইসিন-গিয়োরো পু ঈ, যিনি মাত্র তিন বছর বয়সে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। মাওলানা ভাসানীর ষাটের দশকে চীন ভ্রমণের সময় পু ঈ-এর সঙ্গে তাঁর চার ঘণ্টার দীর্ঘ আলাপের কথা তাঁর ভ্রমণ কাহিনি ‘মাও সে তুং এর দেশে’ উল্লেখ করেন। পু ঈ তাঁর যৌবনে চীনের কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে গিয়ে জাপানিদের সাহায্য করতে থাকেন এবং এর ফলে ১৯৩৪ সালে জাপান তাঁকে মাঞ্চুকুয়ো নামক একটি রাষ্ট্র গঠন করে তাঁকে সম্রাট ঘোষণা করে।


১৯৪৯ সালে চীনের বিপ্লবের পরে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ১০ বছর কারাভোগের পর যখন তাঁর সামগ্রিক ও আদর্শিক আত্ম-সংস্কার দৃশ্যমান হয়, তখন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ কারাভোগ মূলত ছিল তাঁর ভুল শোধরানো ও অনুশোচনা তৈরির একটি প্রক্রিয়া, যার ফলে তিনি তাঁর বাকি জীবনকে সমাজতান্ত্রিক চীনের উন্নয়নের জন্য উৎসর্গ করেন। এমনকি তিনি তাঁর একসময়ের বাসস্থান ‘ফরবিডেন সিটিতে’ টিকিট কেটে ঘুরতে যান। পু ঈ-এর জীবনের শেষভাগটিকে আমরা দেখতে পারি রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশনের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে।


আমরা যখন জুলাই-পরবর্তী সময়ের দুই বছর পার করছি, ঠিক তখনই নানা পরিসরে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা দেখছি ও শুনছি। আমরা দেখতে পাই যে এক পক্ষ যেমন রিকনসিলিয়েশনের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, আবার অন্য একটি পক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করছে।


তবে যে আওয়ামী লীগের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ চলমান, সেই তারাই আবার জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে যখন একধরনের ডিনায়াল বা অস্বীকারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন রিকনসিলিয়েশনের আলাপ কতটা যৌক্তিক সে প্রশ্নও আমাদের সামনে আসছে।


আবার জুলাইয়ের উদ্যম ধারণকারী অনেকেই মনে করছে এত শিক্ষার্থী জনতার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে কী করে তারা রিকনসিলিয়েশনের কথা ভাববে। ফলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ চলমান থাকলেও এটা যে বেশ কঠিন এক বিষয়, তা বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না।


আবার বৈশ্বিক উদাহরণগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক বদলের ধরনও আলাদা। ফলে বৈশ্বিক রিকনসিলিয়েশনের উদাহরণ নিয়ে যুক্তি দিলেও সেই উদাহরণ যে আমাদের দেশে কাজ করবে, সেটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। আমরা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহারে রিকনসিলিয়েশনের কিছু প্রতিশ্রুতি দেখতে পেলেও, তারা কী করে এর বাস্তবায়ন করতে চায় সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার দিকনির্দেশনা নেই।


আমাদের এ-ও মনে রাখতে হবে যে একটি বিভক্ত সময়ে যখন জাতীয় ঐক্যের একটি স্পষ্ট অভাব, ঠিক সেই সময়ে বিএনপি সরকারের পক্ষেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট একটি অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে বেশ কঠিন একটি কাজ। আবার এ-ও সত্য যে আমরা কখনোই রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের সবকিছু বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে দেখতে পাইনি।


আওয়ামী লীগের ডিনায়ালের রাজনীতি ও অবস্থান আবারও জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় গত ৫ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে তাদের একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। যেখানে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেল যে আওয়ামী লীগ মনেই করে যে ২০২৪ সালের এর জুলাই-আগস্টে তারা অনুশোচনা করার মতো কোনো কিছু করেনি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও